গ্যাসের দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসবে বলে এরই মধ্যে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছিল। ব্যবসায়ীরাও জানাচ্ছিলেন যে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা হলে তাঁরা বাড়তি দাম দিতেও রাজি আছেন। সম্ভবত সরকার সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে প্রশ্ন হলো, এই দাম বাড়ার ফলে আদৌ শিল্প-কারখানা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ দেওয়া সম্ভব কি না। এ ক্ষেত্রে যে বাধা রয়েছে তা হলো, এতে অতিরিক্ত যে টাকা হাতে আসবে তা দিয়ে সরকার হয়তো এলএনজি আমদানির বিবেচনা করে থাকতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এলএনজি আমদানির জন্য আমাদের যতটা ডলার দরকার, টাকা ততটা দরকার নেই। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কিন্তু এলএনজি আমদানিরও কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না।

আমার মতে, এর চেয়ে ভালো সমাধান হতে পারত, যদি অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগগুলো দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া যেত। সেই ক্ষেত্রে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত হতো। এতে উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির নির্ভরতাও কমত। এই উদ্যোগগুলো এখনো সরকারের সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে সরকার হয়তো আইএমএফের যে একটা অবস্থান, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে যৌক্তিকীকরণ—গ্যাস খাতে ভর্তুকি কিছুটা কমিয়ে আনা, সেটা পারবে। তবে এর মাধ্যমে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে হয় না। বিশেষ করে শীতকাল চলে গেলে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে ছোট ও মাঝারি শিল্পে গ্যাসের সংকট আরো প্রকট হতে পারে। যার ফলে নতুন দামে গ্যাস দিলেও সেটির সরবরাহ নিশ্চিত করার সমস্যাটি থেকে যাবে বলে আমাদের আশঙ্কা। এর ফলে শিল্প-কারখানার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব পণ্য উৎপাদনে পড়বে। গ্যাসের দাম বাড়ার বিষয়টি ঘুরেফিরে ভোক্তার কাঁধেই পড়বে।

দেশের মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে কিছুদিন আগে বিদ্যুতের মূল্যও বৃদ্ধি পেল, এখন নতুন করে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি আরেক দফা বাড়তে যাচ্ছে। স্টিল, সিরামিক, টেক্সটাইলসহ এ ধরনের বিভিন্ন খাতে গ্যাসের ব্যবহার বেশি, এখন এসব পণ্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। যার ফলে বাড়বে দামও।

পিএসএন/এমঅ‌াই