খুলনায় ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত

সারাদেশের ন্যায় খুলনাতেও ঈদ-উল-ফিতরের জামাত ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ধর্মমন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নির্দেশনাবলি কঠোরভাবে প্রতিপালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
    খুলনার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জুম অ্যাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসকল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
    সভায় জানানো হয়, খুলনায় ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে টাউন হল মসজিদে। সেখানে সকল আটটা, নয়টা এবং ১০টায় পৃথক তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনার অন্যান্য মসজিগুলোতেও মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পৃথক পৃথক সময়ে একাধিক জামাত অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
    সভাপতির বক্তৃতায় মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, করোনা মহামারীর কারনে সরকার ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঈদের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের ক্ষেত্রে ইমামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। জুম্মার দিনগুলোতে খুদবার সময় ধর্মমন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সঠিকভাবে মুসল্লীদের কাছে তুলে ধরার জন্য তিনি ইমামদেরকে অনুরোধ করেন।
    উল্লেখ্য এবছর ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনে গত ২৬ এপ্রিল ধর্মমন্ত্রণালয় ১২ দফা নির্দেশনা জারি করে। যার মধ্যে রয়েছে ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠান করা, মসজিদে কর্পোট বিছানো যাবে না, নামাজের পূর্বে মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মসজিদে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে, নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে আসতে হবে। আগত মুসল্লীকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। নির্ধারিত শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। জামাত শেষে কোলাকুলি ও হাত মেলানো পরিহার করতে হবে। সর্বোপরি ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ শেষে কোরানাভাইরাস মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহান বাব্বুল আল-আমিন এর দরবারে প্রার্থনা করতে হবে। মসজিদের খতিব, ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে এসকল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।
    
    প্রস্তুতিমূলক সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সাদিকুর রহমান খান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহীন বিন জামান, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজমল আহমেদ তপন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলমগীর কবির প্রমুখ বক্তৃতা করেন