ক্রিকেট ব্যাট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। আগে যেসব ব্যাটকে অবৈধ ধরা হতো, এবার নির্দিষ্ট শর্তে সেগুলোকেও বৈধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংস্থাটি।
ইংলিশ উইলোর (ব্যাট তৈরির কাঠ) দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় ব্যাট এখন বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অপেশাদার ও বিনোদনমূলক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো ব্যাট কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। খেলাটিকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এমসিসি।
এমসিসি জানিয়েছে, ক্রিকেট আইনের নতুন সংস্করণে মোট ৭৩টি পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এসব নতুন নিয়ম কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওপেন এজ বিনোদনমূলক ক্রিকেটে এখন থেকে ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহার করা যাবে। এগুলোকে বলা হয় টাইপ ডি ব্যাট। এই ব্যাট সর্বোচ্চ তিনটি কাঠের অংশ দিয়ে তৈরি হতে পারে।
এর আগে টাইপ ডি ব্যাট শুধু জুনিয়র ক্রিকেটে অনুমোদিত ছিল। তবে ব্যাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার বড়দের ক্রিকেটেও এটি বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ল্যামিনেটেড ব্যাটে সাধারণত সামনের অংশে থাকে ইংলিশ উইলো, আর পেছনের অংশে ব্যবহার করা হয় তুলনামূলক সস্তা কাঠ, যেমন কাশ্মীরি উইলো।
অন্যদিকে, টাইপ এ, বি ও সি ব্যাট এক টুকরো উইলো কাঠ দিয়ে তৈরি হয়। এগুলো পেশাদার ক্রিকেটে আগের মতোই ব্যবহার করা হবে।
নতুন নিয়মে ব্যাটের পেছনের অংশে উইলোর বদলে অন্য কাঠ ব্যবহারেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাট তৈরির খরচ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট বলেন, দীর্ঘ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “টাইপ ডি ব্যাটে পারফরম্যান্সের সুবিধা খুবই সামান্য। যদি এতে নিচের স্তরের ক্রিকেট সাশ্রয়ী হয় এবং খেলাটির ভারসাম্য নষ্ট না হয়, তাহলে এটি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।”
এমসিসির মতে, ইংলিশ উইলোর প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটের দাম দ্রুত বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে চাহিদা বাড়ায় বিশ্ববাজারে ব্যাটের দাম প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক উন্নত মানের ব্যাটের দাম এখন প্রায় ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছেছে। স্টুয়ার্ট বলেন, “পর্যাপ্ত উইলো পাওয়া যাচ্ছে না। তাই যতটা সম্ভব টেকসইভাবে কাঠ ব্যবহার করতে হবে।”
বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এমসিসি বিকল্প উপকরণ দিয়ে ব্যাট তৈরির বিষয়েও ভাবছে। তবে এতে খেলাটির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা উইলোর বিকল্প হিসেবে বাঁশ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একসময় গ্রাফাইট-ব্যাকড ব্যাট নিয়েও আলোচনা হয়েছিল, যদিও তা ২০০৬ সালে নিষিদ্ধ করা হয়।
নতুন সংস্করণে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন থাকছে- বহুদিবসীয় ম্যাচে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও ওভার শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেলা চলবে। বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে ধরা ক্যাচে ‘বানি হপ’ কৌশল সীমিত করা হয়েছে। বল ছাড়ার সময় উইকেটকিপারের গ্লাভস অবশ্যই স্টাম্পের পেছনে থাকতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে শর্ট রান করলে ফিল্ডিং দল শাস্তি হিসেবে পরবর্তী ব্যাটার ঠিক করতে পারবে
এ ছাড়া ক্রিকেট আইনের ভাষা আরও সহজ করা হচ্ছে এবং লিঙ্গভিত্তিক শব্দ বাদ দেওয়ার কাজও সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এমসিসি।


