জন্মস্থান ও অন্যান্য জায়গায় নারী ও কন্যা শিশুদের উপর যৌন হয়রানি ও নানাবিধ যৌন সহিংসতা বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি জরিপ অনুসারে দেখা যায় ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী নারী ও কন্যা শিশুদের ৯০ শতাংশই রাস্তা, বাজার বা বিপণী কেন্দ্র, গণপরিবহন সহ অন্যান্য স্থানে যৌন হয়রানি, সহিংসতা ও অবাঞ্ছিত শারীরিক স্পর্শের শিকার হয়।
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়াং বাংল,’ ইউনাইটেড নেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) এর মানবাধিকার কর্মসূচি (এইচআরপি) এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। জন্মস্থানে নারীর নিরাপত্তা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনসহ তরুণ সমাজ ও নাগরিকদের ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচারণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এর অন্যতম লক্ষ্য। এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হলো নারীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিমালার সীমাবদ্ধতার চিহ্নিত করে তা নীতিনির্ধারকদের জানানো যাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়। জনস্থানে নারীর নিরাপত্তা ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পাঁচটি বিভাগের ১০ জেলায় মাঠ পর্যায়ে দশটি তরুণ সংগঠন কাজ করছে।
জনস্থানে নারীর নিরাপত্তা ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে অপরাজিতা যুব কল্যাণ সংস্থা সোমবার খুলনা শপিং কমপ্লেক্স সেন্টারে ব্যাবসায়ী মালিক সমিতি ও কর্মকর্তাদের সাথে জনসচেতনতা মূলক মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার আয়োজন করেছে। এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: আবুল হাসান, পরিচালক খুলনা চেম্বার অফ কমার্স এবং সাধারণ সম্পাদক, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স সেন্টার । তিনি তার বক্তব্যে জন্মস্থানে নারীর নিরাপত্তা ক্যাম্পেইনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এটি যুগোপযোগী একটি কর্মসূচি। আমরা এই কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং সার্বিক সহযোগিতা এবং সাফল্য কামনা করছি । আমি মনে করি জন্মস্থানে নারীর নিরাপত্তার জন্য আরো কাজ হওয়া দরকার এবং মানুষের হৃদয়ে এবং তার আচারণগত দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। খুলনা শপিং কমপ্লেক্স এ সকল ব্যবসায়ী এবং কর্মচারী কর্মকর্তা বৃন্দ যারা আছেন আমরা সবাই ইতিবাচক এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এবং তাদের নিরাপত্তায় আমরা সকল বিষয় দৃষ্টি রাখি এবং ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করি । আগামীতে নারীদের নিরাপত্তার জন্য জনসচেতনতা মূলক কোন কর্মকান্ড যদি প্রয়োজন হয় সে বিষয়ে আমরা অবশ্যই মূল্যায়ন করব। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে আমরা গুরুত্ব দিব। আপনারা জানেন আমাদের এই শপিং কমপ্লেক্সটি সিসি ক্যামেরায় আওতায় রয়েছে । তাই এখানে কোন প্রকার সমস্যা হলে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে পারব। এই সময় আর উপস্থিত ছিলেন খুলনা শপিং কমপ্লেক্স এর মালিক সমিতির সদস্য মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, মো: মোদারেস, মোঃ মেহেদী হাসান মাকসুদ, মো: সাইফুল ইসলাম, মো: আশরাফুল ইসলাম, মো: সামসু এবং বিভিন্ন দোকানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। জনস্থানে নারীর নিরাপত্তা ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে খুলনা শপিং কমপ্লেক্সে ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে একটি জনসচেতনতা মূলক ব্যানার শপিং কমপ্লেক্সের সামনে স্থাপন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দোকান মালিক সমিতির কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সাথে কথোপকথন হয় এবং শপিং কমপ্লেক্স এর বিভিন্ন ক্রেতা বিক্রেতার সাথে এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে জনসচেতনতামূলক আলোচনা হয়। সকলেই এমন আয়োজন ও উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই কর্মসূচিটি পরিচালনা এবং সমন্বয় করেন অপরাজিতা যুব কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার মন্ডল ও অপরাজিতার কার্যনির্বাহী সদস্য সঞ্জয় কুমার মল্লিক এবং পিকু কুমার বাছড়।


