জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রির ৮ কোটি টাকার বেশি ‘হরিলুটের’ অভিযোগ উঠেছে। বিষযটি নিয়ে সরেজমিনে এসে তদন্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত দল।

এই তদন্তের প্রতিবেদন খুব শিগগির প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত দলের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মো. আবু তাহের।

বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে প্রথম দিনের তদন্ত শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ঘেঁটে দেখেছি। তদন্তের জন্য হয়তো এখানে আর আসতে নাও হতে পারে। খুব শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে’।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ভর্তি ফরম থেকে মোট আয় হয় প্রায় ২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০ কোটির বেশি ব্যয় হয় পরীক্ষা আয়োজনে। আর দুই কোটির বেশি ব্যয় হয় অন্যখাতে। অভিযোগ ওঠে, বাকি ৮ কোটি টাকার বেশি নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

ইউজিসির আর্থিক বিধিবিধান অনুসারে, ভর্তি ফরম বিক্রি থেকে পাওয়া আয়ের ৪০ শতাংশ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা রাখতে হয়। বাকি ৬০ শতাংশ অর্থ দিয়ে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সার্বিক ব্যয় নির্বাহ করতে হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, ‘আমাদের কাছে যা যা ডকুমেন্টস চেয়েছে, তদন্তের সার্থে সব ধরনের ডকুমেন্টস তাদের দেওয়া হয়েছে’।

এর আগে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের কাউন্সিল কক্ষে বৈঠকে বসেন তদন্ত দল। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মনজুরুল হক, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবু হাসান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আলী রেজা প্রমুখ।

এছাড়া তদন্ত দলের অপর দুই সদস্য ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. গোলাম দস্তগীরও উপস্থিত ছিলেন।