ইন্টারনেটের মূল্য কমলেও কিছু ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে স্বীকার করে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, মোবাইল ফোন সম্পর্কে প্রচুর অভিযোগ আমার কাছে আসে। গ্রাহকদের প্রথম অভিযোগ ডাটার মেয়াদ নিয়ে।

ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড পলিসি নিয়ে বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা ১৯৯৭ সালে টু-জি এবং ২০১৩ সালে থ্রি-জির যুগে প্রবেশ করি। আজকে মোবাইল ইন্টারনেটে প্রায় শতকরা ৯৫ শতাংশ কথা বলছি। এ মোবাইল ইন্টারনেট তো শুরুই হয়েছে আমি যখন থ্রি-জির যুগে গেছি তারপরে। ফোর-জির যুগে গেলাম ২০১৮ সালে এবং ২০২১ সালে ফাইভ-জির উদ্বোধন করলাম।

ইন্টারনেট তথা ডাটার মূল্য কমানো নিয়ে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০০৬ সালে এক এমবিপিএস ব্যান্ড উইথের মূল্য পেতাম ৭৮ হাজার টাকা, ২০০৮ সালে ২৭ হাজার টাকা আর এখন ৬০ টাকা। হিসাব করে দেখেন কী পার্সেন্টেজে পড়ে। তবে হ্যাঁ, আমাদের একটা দুর্বল জায়গা আছে। এ দুর্বল জায়গাটা যেহেতু বাংলাদেশের শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে মোবাইল ফোন দিয়ে। মোবাইল ফোন সম্পর্কে প্রচুর অভিযোগ আমার কাছে আসে। মোবাইল ফোনের গ্রাহক প্রথমে যে কথাটা বলে- আমি ডাটা কিনেছি, আমার কেনা ডাটার জন্য লিমিট থাকবে কেন? কেন আমার ডাটা তিন দিনে ফুরিয়ে যাবে, ২৪ ঘণ্টায় ফুরিয়ে যাবে, সাত দিনে ফুরিয়ে যাবে, আমি তো ডাটাটা পয়সা দিয়ে কিনেছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি, জনগণের প্রয়োজনটাকে অ্যাড্রেস করার। একই সঙ্গে আইএসপিকে বলতে পারব না আপনারা বিনামূল্যে ব্যান্ড উইথ দেন, আমি তেমনিভাবে টেলকোকে বলতে পারবো না আপনি ফ্রি সার্ভিস দিয়ে দেন। কিন্তু যে জিনিসটা আমি মনে করবো যে ডেফিনেটলি যে ব্যবসা হয় সেই ব্যবসার ক্ষেত্রে নিয়ম কানুন মেনে জনগণকে লক্ষ্য করে আমাদের ব্যবসা করতে হবে। যদি জনগণ না থাকে তাহলে আমার, আপনার কারো ব্যবসাই থাকবে না। আমরা কেউ কোথাও দাঁড়াতে পারবো না। জনগণের সস্তুষ্টির ওপরে নির্ভর করে আমাদের চলতে হয়। এ কারণে আজকে বিটিআরসিকে ধন্যবাদ দিচ্ছি, কারণ বাংলা এসএমএসের মূল্য কমিয়েছে। ’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচির মো. খলিলুর রহমান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিককদারসহ টেলিকমখাতের বিশেষজ্ঞরা।