ডায়াবেটিস, বর্তমানে অতি পরিচিত এক স্বাস্থ্যসমস্যার নাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ১০ জনে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ এই রোগটিতে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। প্রতিবছর দেড় মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয় ডায়াবেটিসের কারণে। তাই এই রোগটি নিয়ে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

ডায়াবেটিস হলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা সবচেয়ে জরুরি। কম কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এমন খাবারই তাদের ডায়েটে থাকা উচিত। রোজকার ডায়েটে নির্দিষ্ট কিছু বীজ রাখলে সহজে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নিই বিস্তারিত-

মেথিবীজ

মেথিতে রয়েছে গ্যালাক্টম্যানান নামক একটি দ্রবণীয় ফাইবার। এটি খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে শরীর দ্রুতগতিতে কার্বোহাইড্রেট শোষণ করতে পারে না। আর এতে রক্তে শর্করার পরিমাণও কম থাকে।

তুলসী বীজ

তুলসী বীজকে অনেকে বাসিলের দানাও বলে থাকেন। দিনের প্রধান খাবার খাওয়ার আগে এই বীজ খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ সহজে বাড়তে পারে না। টাইপ-২ ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীদের জন্য তুলসী বীজ বেশ উপকারি।

মিষ্টি কুমড়ার বীজ

মিষ্টি কুমড়ার বীজে থাকা একাধিক পুষ্টি উপাদানের জন্য এটি ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েটে থাকা উচিত। এতে রয়েছে ট্রাইগোনিলিন, নিকোটিনিক অ্যাসিড ও ডি-চিরো-ইনোসিটল। এছাড়াও এই বীজে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ ও ওমেগা-৬ অ্যাসিড। এই উপাদানগুলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

আজোয়ান বীজ

এটি উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ একটি বীজ। প্রতিদিনের ডায়েটে আজোয়ান বীজ রাখা উচিত। এর প্রদাহ প্রশমনের গুণ রয়েছে। তাই এটি ক্ষত তাড়াতাড়ি সারাতে সাহায্য করে। তাছাড়া আজোয়ানে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট মেটাবলিজম দ্রুত করতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের ওজন কমানোও সহজ হয়।

ফ্ল্যাক্স সিডস

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ফ্ল্যাক্স সিডস বেশ উপকারি ভূমিকা রাখে। এই বীজে রয়েছে বেশ কয়েকটি অদ্রবণীয় ফাইবার। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখার পাশাপাশি পেটের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ফ্ল্যাক্স লিগন্যান থাকায় ফ্ল্যাক্স সিড টাইপ-১ ডায়াবেটিসের পাশাপাশি টাইপ-২ ডায়াবেটিস সারাতেও মুখ্য ভূমিকা রাখে।