ফেরি–সংকটের পাশাপাশি অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পারের অপেক্ষায় পাঁচ শতাধিক ঢাকামুখী যানবাহন আটকে আছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে আটকে থেকে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী, গাড়িচালক ও শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাড়ির লম্বা সারি দৌলতদিয়া প্রান্তে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে চার কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।
সাধারণ পণ্যবাহী বা অপচনশীল পণ্যবাহী গাড়ি বা কার্ভাড ভ্যানগুলো ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা ধরে আটকে আছে। কোনো কোনো গাড়ি আটকে আছে দুই দিন ধরে। সরেজমিন মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট (৩ নম্বর ঘাট) থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পর্যন্ত চার শতাধিক যানবাহন পারের অপেক্ষায় আছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী যানবাহন ও পচনশীল পণ্যবাহী পরিবহনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।
ফেরিঘাটের যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা চাপ কমাতে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত ফেরি পারের অপেক্ষায় আটকে আছে আরও দুই শতাধিক যানবাহন।
ঘাটপারের অপেক্ষায় থাকা চালকেরা জানালেন, অধিকাংশ দিন সন্ধ্যার পর নিয়মিত গাড়ির সঙ্গে অতিরিক্ত কাঁচা পণ্যের গাড়ি, মাছের গাড়িসহ পণ্যবাহী গাড়ি এবং দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ঢাকামুখী হওয়ায় বাড়তি চাপ পড়ে। আজও বেলা বাড়ার সঙ্গে সেই চাপ পড়েছে।
দৌলতদিয়া ক্যানালঘাট এলাকায় লম্বা সারিতে আটকে থাকাকালে কথা হয় চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা চুয়াডা ডিলাক্স পরিবহনের যাত্রী ফজলুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা হলো দৌলতদিয়া ঘাটে এসে মহাসড়কের ওপর সিরিয়ালে আটকে আছেন। কখন ফেরিতে উঠতে পারবেন জানেন না।
যশোরের বেনাপোল থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে আটকা পড়েন। সেখান থেকে আজ মঙ্গলবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে সিরিয়ালে আটকা পড়েন বেলা তিনটায়। এখনো তাঁরা সিরিয়ালেই আটকে আছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শিহাব উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি–সংকট আছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। মঙ্গলবার রাতেই আরও একটি ফেরি বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে। তখন হয়তো ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমে আসবে। তবে রাতে কুয়াশায় ফেরি বন্ধ হলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।
পিএসএন/এমঅাই



