জমি কিংবা ফ্ল্যাট বিক্রি হয় এ কথা সবার জানা। মাঝেমধ্যে অবশ্য পুরো বাড়ি বিক্রির খবরও মেলে। তাই বলে পুরো গ্রাম! অবাক করা এমন ঘটনা সত্যিই ঘটেছে। সম্প্রতি একটি সম্পত্তি বিকিকিনির ওয়েবসাইটে পাওয়া গেল এমনই বিজ্ঞাপন। 

গ্রামটির নাম, সালতো দে কাস্ত্রো। উত্তর-পশ্চিম স্পেনের এই গ্রামটির মূল্য চাওয়া হয়েছে ২ লক্ষ ঊনষাট হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার কিছু বেশি।

স্পেন আর পর্তুগালের সীমান্ত নিকটবর্তী জামোরা প্রদেশে অবস্থিত এই গ্রাম। মাদ্রিদ থেকে সড়ক পথে গ্রামটিতে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা। সেখানে রয়েছে অনেকগুলি অট্টালিকা। স্প্যানিশ ছোট শহরগুলোতে যেমন বাড়ি দেখা যায়, এই বাড়িগুলো অনেকটা তেমনই।  

বাড়িগুলোর মধ্যে ৪৪টি হলো বসতবাড়ি। এছাড়া রয়েছে ১টি হোটেল, ১টি গির্জা এবং ১টি স্কুল। এখানেই শেষ নয়। সমবেতভাবে ব্যবহার করার মতো একই সুইমিং পুলও রয়েছে গ্রামটিতে। আরও আছে নিরাপত্তারক্ষীদের থাকার জন্য ব্যারাক বিল্ডিং।

যে ওয়েবসাইটে সালতো দে কাস্ত্রো গ্রামটি বিক্রয়ের কথা জানানো হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা এই গ্রাম গড়ে তোলে। এর কাছেই একটি বাঁধ নির্মাণের জন্য সেখানে বহু মানুষ কাজ করতেন। ১৯৮০ সাল নাগাদ বাঁধ নির্মাণ শেষ হয়। এরপর প্রায় সবাই গ্রাম ছেড়ে চলে যান। 

কয়েক দশক ধরেই সালতো দে কাস্ত্রো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জায়গাটির বর্তমান মালিক ২০০০ সালের শুরুর দিকে গ্রামটি কেনেন। তার ইচ্ছে ছিল এই জায়গাটিকে পর্যটনস্থলে রূপান্তরিত করবেন। কিন্তু তারপরই ‘ইউরোজোন সঙ্কট’ দেখা দেয়। এই সঙ্কটের ফলে এক দেশ থেকে অন্য দেশে বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যার ধাক্কা লাগে মালিকের সাজানো পরিকল্পনায়। 

বর্তমানে জায়গাটির মালিকের বয়স ৮০ পেরিয়ে গিয়েছে। তিনি জমি জায়গা আর সামলে রাখতে পারছেন না। আর এই কারণেই বিক্রির প্রয়াস।

গ্রামটির জন্য যে মূল্য চাওয়া হয়েছে তাতে মাদ্রিদ বা বার্সেলোনার ভালো এলাকায় শুধু এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের পাওয়া যাবে। জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত রাশিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ব্রিটেনের প্রায় তিনশো জন গ্রামটি কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন।