কক্সবাজারে পর্যটক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় এজাহারভুক্ত আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকা থেকে মঙ্গলবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পর্যটন পুলিশের চট্টগ্রাম জোনের অতিরিক্ত এডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিম।
গ্রেপ্তারকৃত ইসরাফিল হুদা জয় (২৪) বাহারছড়া এলাকার মো. শফিউদ্দিন শফির ছেলে।
২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে ২৫ বছর বয়সী এক পর্যটককে তুলে নিয়ে তার স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে কয়েক দফা ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ঢাকার এই গৃহবধূর স্বামী কক্সবাজার থানায় মামলা করেন। তাতে চারজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় আরও তিনজনকে।
মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলাম আশিক, এজাহারভুক্ত অন্য দুই আসামি ও সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তার করা হল মামলার ২ নম্বর আসামি ইসরাফিল হুদা জয়।
এডিআইজি মুসলিম সাংবাদিকদের বলেন, “ইসরাফিল হুদা জয় কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। খবর পেয়ে পর্যটন পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।”
তিনি বলেন, “ঘটনার সামগ্রিক বিষয়বস্তু তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এজাহারভুক্ত অপর আসামি মেহেদী হাসান বাবুকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও ঘটনার পুরো চিত্র জানা যাবে।”
পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যটন পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান মোহাম্মদ মুসলিম।
যদিও পুলিশের ওপর ভরসা নেই বলে ওই নারী ও তার স্বামী জানিয়েছেন। মামলার প্রধান আসামি আশিকের সঙ্গে পর্যটক নারীর পূর্বপরিচয় রয়েছে বলে পর্যটন পুলিশ দাবি করেছে। কিন্তু ওই নারী সেই দাবি অস্বীকার করেছেন।
আশিককে রোববার গ্রেপ্তার করে র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, চাঁদা ‘না দেওয়ার’ কারণে কক্সবাজারে ওই নারী পর্যটককে ধর্ষণ করার কথা আশিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
‘ধর্ষণের শিকার’ হলে ওই নারী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাড়া পাননি। তিনি বলেন, ধর্ষণের বিষয়ে অভিযোগ করার জন্য তিনবার তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাড়া পাননি। পরে র্যাবকে ফোন করেন তিনি।
তবে ৯৯৯-এ কল দিয়েও সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন কক্সবাজার পর্যটন পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান।
আর র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর র্যাব অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে হোটেল কক্ষ থেকে উদ্ধার করে। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে পর্যটন গলফ মাঠ এলাকা থেকে স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী উদ্ধারের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বুধবার সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে ওঠেন তারা। বিকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে এক মার্কেটে ভিড়ের মধ্যে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে কথাকাটাকাটি হয়।
তিনি বলেন, পরে সন্ধ্যার দিকে পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার শিশুসন্তান ও স্বামীকে অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। আর তিন যুবক আরেকটি অটোরিকশায় করে ওই নারীকে তুলে নিয়ে গলফ মাঠের পেছনে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ওই নারী বলেন, ওই তিন যুবক তাকে পরে নিয়ে যায় জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে। তৃতীয় তলার একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে আরেক দফা ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে ‘হত্যা করা হবে’ বলে হুমকি দিয়ে বাইরে থেকে রুম আটকে চলে যায় ওই তিন যুবক। পরে র্যাব গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।



