হিমালয়ের দেশে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। নেপালের দশরত স্টেডিয়ামে এক মহাকাব্যিক জয় পেয়েছে বাংলার মেয়েরা। দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে বুক চিতিয়ে রুখে দিয়েছে নেপালি মেয়েদের। ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাঘিনীরা।
বাংলার মেয়েদের এই জয় যে এভারেস্ট জয়ের আনন্দকেও ম্লান করে দিয়েছে। পুরো দেশের মানুষের চোখ প্রাপ্তির জল ছলছল করছিল। এমন একটি জয়ের আশায় তো ছিল গোটা দেশ।
বাঘিনীদের জয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছেয়ে গেছে অভিনন্দন বার্তায়। যে লোকটি জীবনে ফুটবল দেখেননি, তিনিও যেন নিজের অজান্তে লিখেছেন আনন্দের অনুভূতির কথা। তারকারাও বাদ যাননি এ থেকে। তারাও শুভেচ্ছায় ভাসিয়েছেন নারী ফুটবল দলকে।
ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, ‘অভিনন্দন বাঘিনীরা। আমাদের মেয়েরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এগিয়ে যাও।’
আরিফিন শুভ তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘চ্যাম্পিয়নস! নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। অভিনন্দন চ্যাম্প।’
সামাজিকতার সঙ্গে লড়াই করে যাওয়া পরীমণি এই জয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। তিনি লিখেছেন, ‘কুর্নিশ নায়কেরা। আমরা আমাদের বাঘিনীদের নিয়ে গর্বিত।’
এই সময়ে দুই বাংলার সবথেকে উজ্জ্বল অভিনেত্রী জয়া আহসান দারুণ একটি পোস্টার প্রকাশ করেছেন। যেখানে নারী ক্রিকেটারদের একটি পেইন্টিংয়ে লেখা আছে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক স্লোগান, ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না।’
এই জয়ে সবার থেকে একটু বেশি খুশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি লিখেছেন, ‘আমি এবং আমার মেয়ে ঝিরঝিরে ব্রডকাস্টেও পুরা খেলা দেখেছি, হইচই করেছি, চিৎকার করেছি। আমি জানি না ও কিছু বুঝতে পারলো কি না বা বড় হয়ে মনে থাকবে কি না— বাংলাদেশের একটা বড় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলো সে। অভিনন্দন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তোমরা সাফ চ্যাম্পিয়ন না হলেও আমাদের চোখে চ্যাম্পিয়নই থাকতা। সকল প্রকার মিসোজিনি, টীকা-টিপ্পনী, বাধা ডিঙিয়ে যে পথ তোমরা চলছো, তাতে তোমরা প্রতিদিনেরই চ্যাম্পিয়ন।’
এদিকে কাল শিরোপা নিয়ে দেশে ফেরার কথা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। তাদের অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ। তাদের নিয়ে উৎসবে মাততে চায় ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশটি।



