করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিপর্যস্ত ভারত। প্রায় এক মাস ধরে দেশটিতে দৈনিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক। এরইমধ্যে দেখা দিয়েছে টিকা সঙ্কট। অনেক জায়গাইতেই বন্ধ হয়ে গেছে টিকাদান কর্মসূচি। আবার দুই ডোজ টিকা নিয়েও আক্রান্ত হয়েছেন অনেকেই। এমন অবস্থায় প্রতিষেধক সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারত বায়োটেক উৎপাদিত ‘কোভ্যাক্সিন’-এর দুই ডোজ নেয়ার পর ৬ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, এমন ব্যক্তিদেরকে ‘বুস্টার’ ডোজ দেয়ার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া। টিকা নেয়া ব্যক্তিদের করোনার বিরুদ্ধে বাড়তি সুরক্ষা দেয়ার জন্যই বুস্টার ডোজের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা কোভ্যাক্সিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের প্রতিষেধক পাওয়ার ৬ মাস পার হয়েছে। এমন ১৯২ জন স্বেচ্ছাসেবীর (১৮-৫৫ বছর) ওপর ৯টি কেন্দ্রে বুস্টার ডোজ প্রয়োগ করে প্রভাব পরীক্ষা করা হবে।

দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স (এআইএমএস) হাসপাতালে শুরু থেকেই কোভ্যাক্সিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করে আসছেন সঞ্জয় রাই। তিনি বলেন, ‘বুস্টার ডোজের অর্থ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এক ধাপ বুস্টিং বা জোরদার করা। ৬ থেকে ৮ মাস বা এক বছর পরে কোভ্যাক্সিন টিকা গ্রহীতাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এলে নতুন করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়াতে বুস্টার ডোজ নেয়া যেতে পারে। এটা কাজ করতেও পারে, আবার না-ও করতে পারে।’

তিনি জানান, যাদের ওপর বুস্টার ডোজ প্রয়োগ করা হবে, আগামী ৬ মাস তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যদি পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়, তবেই বুস্টার ডোজ দেয়ার কথা ভাবা হবে।