শতবর্ষে পদার্পণ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট নেতা জিমি কার্টার। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেললেন। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামা।
জন্মদিনে জিমি কার্টারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে হোয়াইট হাউস চত্বরে বিশাল স্ক্রিনে বড় হরফে লেখা ‘হ্যাপি বার্থডে প্রেসিডেন্ট কার্টার’ প্রদর্শন করা হয়েছে। খবর-সিএনএন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়ে বারাক ওবামা লিখেছেন, ভদ্রতা ও সৌজন্যতাবোধের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আপনি যা করেছেন সেজন্য আমি ও মিশেল কৃতজ্ঞ।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জন্মদিনে এক্সে পাঠানো এক বার্তায় তিনি জিমি কার্টারের মঙ্গল কামনা করেন।

হোয়াইট হাউস চত্বরে স্ক্রিনে লেখা ‘হ্যাপি বার্থডে প্রেসিডেন্ট কার্টার’
পরিবারের সদস্যরাও জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন। মঙ্গলবার পরিবারের ২৫ জন সদস্য বাড়িতে কেক কেটে জিমি কার্টারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
জিমি কার্টারের ছেলে চিপ কার্টার বলেন, মাসদুয়েক আগে বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি শতবর্ষী হতে চান কিনা। জবাবে বলেছিলেন, আমি কমলা হ্যারিসকে ভোট দেওয়ার জন্য বাঁচতে চাই।
এক বছর আগে মারা গেছেন জিমি কার্টারের স্ত্রী রোজেলিন। স্ত্রীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার হুইলচেয়ারে শেষবার তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। কয়েক বছর ধরে ত্বকের ক্যানসারসহ নারা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বাকি জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
গত বছর কার্টার সেন্টারের বরাতে এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পর পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে অবশিষ্ট সময় কাটাতে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসা হস্তক্ষেপের পরিবর্তে হসপিস কেয়ারে যত্ন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। জিমি কার্টারের এমন সিদ্ধান্তে তার পরিবার এবং মেডিকেল টিম সমর্থন জানিয়েছে।
এর আগে বেশ কয়েকবার পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন জিমি কার্টার। ২০১৯ সালের অক্টোবরে তার মুখে সেলাইও পড়ে। তার আগে ওই বছরের মে মাসে বাড়িতে পড়ে গিয়ে তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। সে সময় অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে।
২০১৫ সালে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের যকৃতে ক্যানসার ধরা পড়ে। সে সময় নিজেই এই তথ্য জানান তিনি। তবে ক্যানসার ধরা পড়ার ছয় মাস পর কার্টার জানান, তার আর চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। ওষুধ গ্রহণ করেই তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
জিমি কার্টার ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট। ৫ বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন জিমি কার্টার। ১৯৮০ সালে পুনর্নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী রোনাল্ড রিগ্যানের কাছে হেরে যান তিনি। ২০২২ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।


