করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে এক কোটি টিকাদানের আগের দিন শুক্রবারও চলছে টিকাদান কর্মসূচি, ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করেছেন আগ্রহীরা।

সকালে ঢাকার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে যারা টিকা নিতে পারেননি তাদের অনেকেই লাইনে অপেক্ষা করছেন। শনিবারের পর টিকার প্রথম দেওয়া হবে কিনা এ সংশয় থেকেও অনেকে টিকা নিতে এসেছেন।

সকাল ৮টার দিকে মিরপুরে ১৩ নম্বরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অস্থায়ী কেন্দ্রে বেশ ভিড় দেখা যায়। অপেক্ষমাণ মানুষের কিউ হাসপাতালের প্রধান ফটক ছাড়িয়ে পুলিশ স্টাফ কলেজ পর্যন্ত চলে গেছে ততক্ষণে। তাদের কেউ কেউ ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কথা বললেন।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মোস্তফা জানান, আগে টিকা নিতে পারেননি। ছুটির দিনেও টিকা দেওয়া হচ্ছে জেনে এসেছেন।

“শুনছি ২৬ তারিখের পর আর প্রথম ডোজ দেওয়া যাবে না। এজন্য আজ চলে এসেছি।”

মহাখালীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকাদান শুরু হয় সকাল ৯টা থেকে। তার আগে থেকেই সেখানে ভিড় করেন টিকা নিতে আগ্রহীরা।

রাজধানীর বাড্ডা থেকে আসা একটি বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মী মাসুদুল হক সেখানে এসেছিলেন টিকা নিতে। তিনি বললেন, নানা কারণে আগে টিকা নেওয়া হয়নি। শুক্রবার ছুটি থাকায় টিকা নিতে এসেছেন।

“ছুটি পাই নাই বেশিরভাগ সময়। এ ছাড়া নিজের কিছুটা অবহেলাও ছিল। কিন্তু অফিস থেকে বলছে টিকা না নিলে হবেই না। এজন্য সকাল ৭টার সময় এখানে এসে বসে আছি।”

মহাখালী থেকে আসা মো. সিরাজুল ইসলাম মিন্টু টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ১৮ ফেব্রুয়ারি। তবে এতদিনেও মোবাইলে এসএমএস আসেনি বলে জানান।

শুক্রবার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এসে টিকা কার্ড দেখালে পরীক্ষা করে দেখা যায়, আগেই মিন্টুর নামে এসএমএস পাঠানো হয়েছে, তবে কোনো কারণে তিনি সেটা পাননি।

অবশ্য যারা নিবন্ধন করেননি, তারাও কেন্দ্রে গেলে টিকা দেওয়া হবে বলে স্বাস্থ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মহাখালীর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেও বেশ ভিড় দেখা যায়।বাড্ডার নূরেরচালার গৃহিনী নাসরিন সুলতানা সেখানে এসে টিকার অপেক্ষায় ছিলেন।

তিনি বললেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল গ্রামের বাড়িতে। সে কারণে নিবন্ধন করতে পারেননি।

“এখন নিবন্ধন ছাড়াই টিকা দিচ্ছে, এজন্য আজ চলে আসলাম। ভিড় হতে পারে এজন্য সকাল সকাল চলে এসেছি।”

শনিবার সারাদেশে একদিনে এক কোটি টিকা দেওয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবারের ভিড় কিছুটা কমাতে শুক্রবারও টিকাদান কেন্দ্র খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, শনিবার সারাদেশে এক কোটি টিকা দেওয়ার পর প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হবে না। ওই ঘোষণার পর সারাদেশের টিকাদান কেন্দ্রগুলোয় ভিড় বাড়তে থাকে।

বুধবার সাভারে টিকা কেন্দ্রে প্রথম ডোজ টিকা প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় হয় যা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে।about:blank

তবে আগের দিন মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এক কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার পরও টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এমনকি প্রয়োজন হলে প্রথম ডোজ টিকাও নেওয়া যাবে।

“তবে সেক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হতে পারে। আমরা দ্বিতীয় ডোজ ও বুস্টার ডোজ নিয়ে কিছুটা ব্যস্ত থাকব। আমাদের ক্যাম্পেইন হয়ত থাকবে না, কিন্তু টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হবে না।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে ১০ কোটি ৮৪ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি।

তাদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৮ কোটি ১৭ লাখ মানুষ। আর ৩৫ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ পেয়েছেন তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ।

বাংলাদেশে গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়। দুই মাস পর ৮ এপ্রিল শুরু হয় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম। আর গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এর মধ্যে গতবছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ লাখ ডোজের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছিল এক দিনে।