আমদানিকৃত ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সব এন্ড্রয়েড ও স্মার্ট মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটে বিজয় এন্ড্রয়েড এপিকে ব্যবহার করতে বিটিআরসির দেওয়া নির্দেশনা প্রত্যাহার চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।সোমবার (২৩ জানুয়ারি) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এবং ই-মেইলের মাধ্যমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপ-পরিচালক (স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট) বরাবর এ নোটিশ পাঠোনো হয়েছে।মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ নোটিশ পাঠান।সাতদিনের মধ্যে নির্দেশনা সংক্রান্ত বিটিআরসির নোটিশ প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।এর আগে বিটিআরসি গত ১৩ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়।এতে বলা হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব এন্ড্রয়েড ও স্মার্ট মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটে বিজয় কি-বোর্ড ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমদানিকৃত ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সব এন্ড্রয়েড স্মার্ট মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটে বিজয় এন্ড্রয়েড এপিকে ফাইল ব্যবহারের লক্ষ্যে কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে বিনামূল্যে বিজয় এন্ড্রয়েড এপিকে ফাইল সরবরাহ করা হবে। এ লক্ষ্যে কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. দিদারুল ইসলামের কাছ থেকে বর্ণিত বিজয় এন্ড্রয়েড এপিকে ফাইলটি সংগ্রহ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। চিঠিতে আরও বলা হয়, আমদানিকৃত বা আমদানিতব্য ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সব এন্ড্রয়েড স্মার্ট মোবাইল হ্যান্ডসেট কমিশন থেকে বাজারজাতকরণের অনুমতি গ্রহণের আগে সব এন্ড্রয়েড/স্মার্ট মোবাইল হ্যান্ডসেটে সরবরাহকৃত বিজয় এন্ড্রয়েড এপিকে ফাইল প্রি-ইনস্টল করে কমিশনে তা প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় উক্ত মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারজাতকরণের জন্য কমিশন থেকে অনাপত্তি দেওয়া হবে না। বিষয়টি কমিশনের নিবন্ধিত স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক সব প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।এর পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, যেহেতু বিআরটিসি কর্তৃক এ ধরনের নির্দেশনা সম্পূর্ণ Arbitrary এবং বিআরটিসি এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আদৌ ক্ষমতাপ্রাপ্ত নয়।তাছাড়া এই অ্যাপটির ইনস্টলেশন বিনামূল্য হলেও অ্যাপটি ইনস্টল করতে হলে গুগলের মাধ্যমে করতে হয়, যা প্রকৃতপক্ষে বিনামূল্যে নয়।নোটিশে আরও বলা হয়, যেহেতু উক্ত নোটিশের (বিটিআরসির নির্দেশনা) বাধ্যবাধকতা একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেয়। এ কারণে বিটিআরসির নির্দেশনা প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একই আইনের ২৪ ধারা অনুসারে শান্তিযোগ্য অপরাধ বটে।