ধ্বংসাত্মক নয়, জাতীয় পার্টি গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে জানিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ বলেছেন, জাতীয় পার্টি কখনোই নির্বাচন বর্জন করেনি, ভবিষ্যতেও বর্জন করবে না।
সোমবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে রওশন এরশাদ এ কথা বলেন। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।
রওশন এরশাদ বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। ক্ষমতায় যাওয়া বা পরিবর্তন আনার একমাত্র উপায় নির্বাচন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করবে। জাতীয় পার্টি কখনোই নির্বাচন বর্জন করেনি ভবিষ্যতেও বর্জন করবে না। জাতীয় পার্টি গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা কখনই ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই।
উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে সর্বক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের গণতন্ত্র অব্যাহত থাকলে, উন্নয়ন টেকসই হয়। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হলে, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মজবুত করতে হবে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে দেশের সকল দল, মতের ঐকমত্য প্রয়োজন।
রওশন এরশাদ আরও বলেন, জাতীয় পার্টি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দেশে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক সরকার ব্যবস্থা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং জাতীয় পার্টি এ লক্ষ্যে প্রধান বিরোধীদল হিসেবে সংসদ ও সংসদের বাইরে গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং জাতীয় পার্টি সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হলো সংসদ। সরকারি দল ও বিরোধীদলের উপস্থিতির পাশাপাশি তাদের পারস্পরিক আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে সংসদ সমৃদ্ধ হয়। এতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনও ঘটে। এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। সংসদের কাজ হচ্ছে- জনগণের পক্ষে ভূমিকা পালন করা। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং আইন প্রণয়নে ভূমিকা পালন করা। সংসদে এসব কার্যক্রম ভালোভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে। বিরোধীদল হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করে যাচ্ছি।
এসময় তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
রওশন এরশাদ বলেন, দ্রব্যমূল্যের বেসামাল অবস্থায় শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। রীতিমতো দাম বেড়েই চলছে। অসাধু ক্ষুদ্র ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে নিজেদের লোভ-লালসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। যার প্রভাবে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দারিদ্র মানুষের জীবনে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত