ওয়েলিংটন থেকে সেঞ্চুরিয়ন প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব। তবে সেই ব্যবধান এক লহমায় ঘুচে যায় একটি নামে- বাংলাদেশ! সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে যে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের ছেলেদের দল, সেই রোমাঞ্চে আন্দোলিত ওয়েলিংটনে বাংলাদেশের মেয়েদের দলও। ছেলেদের জয়ের ইতিবাচকতরার ছোঁয়ায় উজ্জীবিত মেয়েরা লড়াই জমাতে চায় পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে।
মেয়েদের বিশ্বকাপে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সামনে এখন বাংলাদেশ। শুক্রবার তাদের প্রতিপক্ষ প্রতাপশালী অস্ট্রেলিয়া। রেকর্ড ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন তারা, এবারও শিরোপা জয়ে সবচেয়ে ফেবারিট। ৬ ম্যাচের সবকটি জিতে এখনও পর্যন্ত টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দল তারা, সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে বেশ আগেই।
ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া সেদিন পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশকে।
শক্তি, সামর্থ্য আর সব বাস্তবতার সমীকরণে এমন দলের বিপক্ষে জয় দুঃসাধ্য। তবে ছেলেদের দলও তো এবারের আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ওয়ানডে ম্যাচও জিততে পারেনি! এবার তারা জিতে নিয়েছে সিরিজ। মেয়েরাও অভাবনীয় কিছু করতে না পারার কারণ দেখছে না।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার বললেন, নামের ভারে নয়, ম্যাচের ফল হবে সুনির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সে।
“আমি যেটা মনে করি, সুনির্দিষ্ট দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেটে কখন কী হয়ে যাচ্ছে, আপনি বলতে পারবেন না। ক্রিকেট খেলাটা হলো মোমেন্টামের খেলা। যে দল যেদিন মোমেন্টাম পায়, তা ধরে রাখতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত বয়ে নিতে পারে এবং ভুল কম করে… (তারাই জিতে যায়)। ক্রিকেটে এখন আর নামের দিক থেকে হয় না। পারফরম্যান্স দিয়েই হয়।”
“অবশ্যই বাংলাদেশ দল যে পারফর্ম করেছে (দক্ষিণ আফ্রিকায়), আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। দলের পক্ষ থেকে অনেক শুভ কামনা সবসময় থাকে। আমাদের দলে এমন অনেকেই আছে, আমরা নিয়মিত বাংলাদেশ দলের খেলা দেখি। কারণ আমরা ক্রিকেট অনেক ভালোবাসি। ভালো ফল হয়েছে, ওখান থেকে একটা পজিটিভ ভাইভ তো আমাদের ভেতর আসবেই। ওই পজিটিভ ভাইভ আমরা বয়ে নিতে চাই সামনে।”
তবে অস্ট্রেলিয়াই শুধু নয়, আরেকটি কঠিন প্রতিপক্ষও আছে বাংলাদেশের সামনে, কন্ডিশন! যদিও নিউ জিল্যান্ডে দেড় মাস ধরেই আছেন নিগার সুলতানারা, তবে ওয়েলিংটনে খেলবেন তারা প্রথমবার। এখানকার তীব্র বাতাসে মানিয়ে নিতে অনেক সময়ই হিমশিম খেতে হয় উপমহাদেশের দলগুলিকে।
ম্যাচের আগে মানিয়ে নেওয়ার যে দুটি দিন সময় ছিল, সেখানে বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। ম্যাচের দিন খেলা শুরুর আগে সময় যেটুকু মিলবে, সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে নিগার।
“এখানে বাতাস অনেক বেশি। গতকালকেই এসেছি এখানে। কালকে মাঠে গিয়েছিলাম বিকেলে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাজ করতে পারিনি। আজকেও বৃ্ষ্টিতে ইনডোরে ছিলাম। আমরা চেষ্টা করছি অ্যানালিস্টের কাছ থেকে যতটুকু জানা যায়। আজকে এই মাঠে আরেকটি ম্যাচ আছে, ওটা দেখে ধারণা যতটুকু নেওয়া যায়।”
“কালকে মাঠে যাওয়ার পর আরেকটু বোঝা যাবে। হয়তো খেলার আগে উইকটে হালকা নক বা ব্যাটিং করলে কিছুটা বুঝতে পারব উইকেটের আচরণ ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।”
আবহাওয়ার বা প্রতিপক্ষ দলের চেয়ে বাংলাদেশের দুর্ভাবনা বেশি আপাতত নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরও বড় এক জয়ের সম্ভাবনা অল্পের জন্য মিলিয়ে গেছে ব্যাটিং ব্যর্থতায়। এরপর ভারতের কাছেও বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে ব্যাটিং ভালো না হওয়ায়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন নিগার।
“আমাদের বোলিং ইউনিট অনেক ভালো করছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যাটিং ইউনিট ক্লিক করা। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বোলাররা আগের ম্যাচগুলোয় সব প্রতিপক্ষকেই মোটামুটি রানে আটকে রেখেছে। কিন্তু ব্যাটিংয়ে আমরা সাপোর্ট করতে পারিনি। টপ অর্ডার ধসে পড়েছে। এজন্য স্কোরগুলি (প্রত্যাশিত) অর্জন করতে পারিনি বা ম্যাচগুলিতে আরেকটু কাছাকাছি যেতে পারিনি।”
“আমরা নিজেরা দলের ভেতর কথা বলেছি যে, কে কীভাবে খেললে ব্যাটিং ইউনিট ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সবারই চাওয়া, ব্যাটিং ইউনিট যেন উঠে দাঁড়াতে পারে। অস্ট্রেলিয়া অবশ্যই শক্তিশালী দল, টুর্নামেন্টে অনেক ভালো অবস্থানে আছে। তবে আমাদের দুটি ইউনিট যদি ভালো করতে পারি, তাহলে লড়াই করতে পারব তাদের বিপক্ষে।”
ওয়েলিংটনে শুক্রবার ম্যাচটি শুরু বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়।
পিএসএন/এমঅাই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত