
বাগেরহাটে তত্বাবধায়কের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছেন ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুর থেকে তারা স্বাভাবিক কাজ শুরু করেছেন।
এর আগে বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে চাকরি বহালের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে সামনের করিডোরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। রাতেও একই স্থানে অবস্থান করেন তারা। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরতদের সাথে কথা বলেন ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার।
এসময় হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। তত্বাবধায়ক ও অন্যান্য চিকিৎসকরা আন্দোলনরতদের বুঝিয়ে বলেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা যোগদান করবে না এমন আশ্বাস দেন তত্বাবধায়ক। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে গেল দুই বছর ধরে কাজ করে আসা আন্দোলনরত কর্মচারীদের কাজে ফেরার নির্দেশ দেন তত্বাবধায়ক। তত্বাবধায়কের এই আশ্বাসে আন্দোলনরতরা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেন। তবে নতুনদের যোগদান করালে এবং পুরাতনদের কাজ থেকে বাদ দিলে আবারও আন্দোলন করা হবে। প্রশাসনিক ভবন এবং চিকিৎসকদের সকল কক্ষ খোলা থাকলেও, পুরাতনদের আবারও চাকুরীতে বহালের আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোহিতুর রহমানের কক্ষ তালা দেওয়া থাকবে বলে জানান আন্দোলনরতরা।
আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থাকা কর্মচারী কার্জন শেখ বলেন, হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা ও তত্বাবধায়কের আশ্বাসে আমরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। তবে ভবিষ্যতে আমাদেরকে নিয়োগ না দিলে এবং নতুন কর্মচারীদের চাকুরীতে যোগদানের সুযোগ দিলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষনা দেন তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, জটিলতা এড়াতে নতুনদের যোগদানে আপতত বিরত রাখা হয়েছে। আর আন্দোলনরতদের কাজে ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত এসব জটিলতা নিরসন করা হবে বলে আশ্বাস দেন হাসপাতাল কর্তপক্ষ।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, নতুন নিযুক্তদের কাজে যোগদানে আপতত বিরত রাখা হয়েছে। আর আন্দোলনরতদের কাজে ফেরার নির্দেশনা দেয়েছি। উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে সার্বিক বিষয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনরত কর্মীরা দুই বছর যাবত হাসপাতালে সেবা দিচ্ছে। তাদের বিষয়ে যাতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত