
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অত্যাচারী ব্যক্তি’ উল্লেখ করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলাপন্থি সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে ‘নাশকতাকারী’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
আজ শুক্রবার দুপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ভাষণ দিয়েছেন খামেনি। ভাষণে তিনি বলেছেন, “ইতিহাস সাক্ষী আছে যে অত্যাচারীরা বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। ফারাও, নমরুদ এবং মোহম্মদ রেজা শাহ (পাহলভি)রা তাদের আগ্রাসী মনোভাবের জন্য ক্ষমতায় টিকতে পারেনি, ট্রাম্পও পারবেন না। তাকেও ক্ষমতা থেকে নামানো হবে।”
ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে ‘নাশকতাকারী’ উল্লেখ করে খামেনি বলেন, বিক্ষোভ-আন্দোলনের মাধ্যমে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানে হামলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন।
“তারা এমন একজন ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছে, যিনি নিজের দেশ চালাতে জানেন না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত কীভাবে দেশ চালাতে হয়— তা শেখা এবং নিজের দেশে সেই শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানো।”
জনগণের এই সরকারপতন আন্দোলন সফল হবে না— দাবি করে খামেনি বলেন, “সবারই জানা থাকা উচিত যে এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্র লাখ লাখ সম্মানিত মানুষের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নাশকতকারীদের তৎপরতায় এই সরকারের পতন ঘটবে না।”
প্রসঙ্গত, বছরের পর বছর ধরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের অবনতি, অসহনীয় মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় নাভিশ্বাস উঠছিল ইরানের সাধারণ জনগণের। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।
এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। গতকাল দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু তারপরও দমানো যাচ্ছে না উত্তেজনা।
ইরানে বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন মোট ৪৫ জন। বিক্ষোভের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে ইসলামপন্থি সরকারের সশস্ত্র বাহিনী যদি কঠোর দমন-পীড়ননীতি অনুসরণ করে— তাহলে যে কোনো সময়ে ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত