ভিন্ন নামে সিলেট বরাবর পয়েন্ট তালিকার তলানিতে হাবুডুবু খেয়েছে। অন্যদিকে কুমিল্লা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুই করে শিরোপার দাবিদার হিসেবে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস নামেই খেলছে। সিলেট এবার স্ট্রাইকার্স নামে খেলছে, ভোলও পাল্টে গেছে। বরাবরের তলানির দল শীর্ষে থেকে শেষ করেছে পুল পর্ব। প্রথম কোয়ালিফায়ারে হারলেও দ্বিতীয়টি জিতে জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে।
তবে কাগজে-কলমে কুমিল্লা ও সিলেটের পার্থক্য অনেক। টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিন ও মঈন আলী খেলছেন ভিক্টোরিয়ানসে। অন্যদিকে সিলেটের বিদেশি কোটায় আছেন ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ‘বি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা। কিন্তু মাঠের ফল তো আর কাগুজে শক্তিতে হয় না। বিপিএলে সর্বাধিক তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস তাই তারকাখচিত একাদশ পকেটে নিয়েও প্রতিপক্ষকে পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, ‘অবশ্যই ভালোভাবে দেখছি (সিলেটকে)। কারণ তারা যেভাবে টুর্নামেন্টটা শুরু করেছিল এবং ফাইনালে এসেছে, তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। বিশেষ করে তাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররা খুব ভালো খেলেছে। সিলেট অবশ্যই শক্তিশালী দল। ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, তাহলেই সম্ভব (চ্যাম্পিয়ন)।’
কাগজে-কলমের শক্তির পাশাপাশি মানসিক একটি লড়াইয়েও এগিয়ে কুমিল্লা। এবারের আসরে সিলেটের বিপক্ষে দুবারের সাক্ষাতেই জিতেছে ইমরুল কায়েসের দল। কিন্তু আরেকটি লড়াইয়ে একই সমতায় কুমিল্লা ও সিলেটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফাইনালে কখনো হারেনি কুমিল্লা। আবার অতীতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কাপ হাতেই মাঠ ছেড়েছেন মাশরাফি। এবার তাহলে কী হবে? ইমরুল হাসেন, ‘ভালো প্রশ্ন করেছেন। আমি বললাম যে ওরা ভালো ক্রিকেট খেলছে, আমরাও ভালো খেলছি। আবার প্রথম তিন ম্যাচ হেরেও আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, সেটাও দারুণ কৃতিত্বের। আশা করি, ফাইনালেও একইভাবে এগোব। শুধু ফাইনাল হিসেবে নয়, কালকে (আজ) আমরা আরেকটি ম্যাচের মতো পরিকল্পনা করেই খেলব।’ বিপিএলে চলমান ‘মাশরাফি-ম্যাজিক’ কুমিল্লার অধিনায়ক বিশ্লেষণ করেছেন ক্রিকেটীয় মানদণ্ডেই, ‘ক্রিকেট দলগত খেলা। এখানে ম্যাজিক বলে কোনো কথা নেই। দল একতাবদ্ধ হয়ে খেলতে পারলে ভালো ফল আসে। অনেক বড় দলও কিন্তু ফল পায় না। কারণ সেই দলের বন্ডিং ঠিক থাকে না। মাশরাফি ভাই যে দলেই খেলুক না কেন, এই জিনিসটা খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন, দলে একতা থাকে। হয়তো এটাই ওনার (মাশরাফি) ম্যাজিক।’
ফাইনালপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সেই ‘ম্যাজিশিয়ান’ অনুপস্থিত। ট্রফি নিয়ে অফিশিয়াল ফটোশুটে ইমরুলের সঙ্গে দেখা গেছে মুশফিকুর রহিমকে। আর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ফর্মে থাকা সিলেটের ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত, যিনি বিপিএলের পূর্ব অভিজ্ঞতা বদলাতে মরিয়া, ‘গত দুটি বিপিএল ফাইনালে হেরেছি। মনে হয়, এটা আরেকটা সুযোগ যে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। ভালো ক্রিকেট খেলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ব্যক্তিগত ফলাফলের চেয়ে দলের ফলাফল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জিততে পারলে আমার ক্যারিয়ারের জন্যও ভালো। বলতে পারব, আমি এই দলের অংশ ছিলাম।’
সেই ভালো ক্রিকেট খেলার প্রধান অন্তরায় শক্তিধর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। নাজমুল স্বভাবতই প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন, তবে ভীত নন, ‘দুটি দলই ভালো বলেই ফাইনালে উঠেছে। আমরা কোন দলের বিপক্ষে খেলছি, এটা জরুরি না। আমার কাছে বেশি জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। অবশ্যই কুমিল্লা ভালো দল। তবে নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো খেলবে, তারাই জিতবে। কোন দলের বিপক্ষে খেলছি, সে দলে কোন বিদেশিরা আছে, এসব নিয়ে আমরা চিন্তিত না।’
এই অভয় ছড়িয়ে দিয়েছেন মাশরাফি। নাজমুলের মন্তব্য তেমন ইঙ্গিতই দেয়, ‘আমরা জানি, মাশরাফি অনেক সাহসী একজন মানুষ। সাহসটাই ওনার শক্তির জায়গা।’ কুমিল্লার বিপক্ষে আজকের ফাইনালে সিলেটেরও শক্তির মূল জায়গা সাহস!
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত