গ্রীষ্মের মৌসুমের জন্য আমাদের সারা বছরের অপেক্ষা। কারণ এসময়েই যে সবচেয়ে সুস্বাদু আর রসালো ফলগুলোর দেখা মেলে। সুমিষ্ট স্বাদের আম খেতে পছন্দ করেন না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আমাদের ছেলেবেলার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে আমের মধুর স্মৃতি। এই ফলের কথা ভেবে তাই নস্টালজিক হয়ে যাওয়া তাই খুব স্বাভাবিক। এটি শিশুদের কাছেও সম্ভবত সবচেয়ে পছন্দের ফল।
ফলের রাজা আম শুধুমাত্র মিষ্টি স্বাদের জন্য পরিচিত নয়, এর রয়েছে অনেক উপকারিতাও। সুঘ্রাণের পাশাপাশি এতে থাকে অনেক পুষ্টি উপাদানও। আমের মৌসুমে অনেকে ইচ্ছা থাকার পরেও খুব বেশি আম খেতে পারেন না বা এড়িয়ে চলেন। কারণ হিসেবে মনে করা হয় যে আম খেলে ওজন বাড়ে। আসলেই কি তাই? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
আজকাল অনেকেই ইচ্ছেমতো আম খাওয়া এড়িয়ে চলেন। তারা মনে করেন প্রতিদিন আম খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। পুষ্টিবিদ জসলিন কৌরের মতে, আম চর্বিমুক্ত, কোলেস্টেরলমুক্ত এবং লবণমুক্ত। এটি গ্রীষ্মের জন্য সুপার ফল। আম শরীরের জন্য দারুণ পুষ্টিকর। এর মানে এই নয় যে কেউ সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবারেও আম খাবেন। যেকোনো খাবারই অতিরিক্ত খেলে তা আপনার ওজন বাড়িয়ে দেবে। আমের ক্ষেত্রেও একই রকম, আপনি যদি অতিরিক্ত খান তবে আপনার ওজন বাড়তে বাধ্য। সুতরাং, আম সম্পর্কে যে ধারণা করা হয় যে এটি ওজন বাড়ায় তা সত্য নাও হতে পারে। এখানে পরিমিত খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আম ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে, শুধুমাত্র যদি তা একটি নির্দিষ্ট ক্যালোরি সীমার মধ্যে খাওয়া হয়। জসলিন কৌরের মতে, আম ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ, আয়রন, কপার এবং প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যা শরীরের জন্য দারুণ। এটি একটি এনার্জি ফুড এবং শরীরে সুগার রাশ সরবরাহ করে যা আমাদের সারাদিন উদ্যমী এবং সক্রিয় রাখে। যাইহোক, আপনার ক্যালরির সীমার উপর নজর রাখা অপরিহার্য কারণ অতিরিক্ত আম খেলে তা আপনার পেট ফুলে যাওয়ার কারণ হতে পারে এবং হজমের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত