সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সুপেয় খাবার পানির হাহাকার দেখা দিয়েছে। উপজেলাজুড়ে মাছের ঘেরের পানি থইথই করলেও সুপেয় পানির সংকট সর্বত্র। এক কলসি পানি আনতে দুই থেকে চার কিলোমিটার পর্যন্ত ছুটতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে দীর্ঘ লাইনে। অবস্থা দিনদিন প্রকট হচ্ছে। মিলছে না সমস্যার সমাধান।
আশাশুনি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, উপজেলার মোট ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে বুধহাটা, কুল্যা, দরগাপুর, বড়দল, খাজরা ও কাদাকাটি ইউনিয়নে গভীর নলকূপ বসালেও পানযোগ্য পানি পাওয়া যায় না। আনুনিয়া, শ্রীউলা ও আশাশুনি সদর ইউনিয়নে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া গভীর নলকূপ বসানো যায় না। শুধু শোভনালি ও প্রতাপনগর ইউনিয়নে গভীর নলকূপের মাধ্যমে সুপেয় পানি পাওয়া যায়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আশাশুনিতে বর্তমানে সুপেয় পানির জন্য উপজেলায় ২ হাজার ২৯১টি গভীর নলকূপ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্ল্যান্ট ২ হাজার ৪৪৮টি, পুকুরের পাড়ে পানির ফিল্টার (পিএসএফ) ১৪২টিসহ খাবার পানির জন্য ৭ হাজার ৮৪১টি পানির প্ল্যান্ট চালু রয়েছে। এর মধ্যে কতগুলো গভীর নলকূপ নষ্ট আছে, তার পরিসংখ্যান দিতে পারেনি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
আশাশুনি উপজেলার পাইথালী কুন্দুড়িয়া মোড়ে দেখা যায়, পানির জন্য দুই শতাধিক নারী-পুরুষ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। ১৫ বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থা পুকুর থেকে পানি ফিল্টারিংয়ের প্ল্যান্ট তৈরি করে দেয় সেখানে। সেখান থেকে কুন্দুড়িয়া, পাইথালী, বাঁকড়া, নৈকাটি, হজিডাঙ্গাসহ ১০-১৫টি গ্রামের ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ পানি নিতে আসে প্রতিদিন। এখান থেকে পানি নিতে হলে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৫০ টাকা দিতে হয়। সেই টাকা দিয়েই পরিশোধ করা হয় ওই প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচ। প্রতিদিন এখান থেকে একটি পরিবার দু-তিন কলসি পানি নিতে পারে।
এসআই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত