নয়ন ইসলাম ঃ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইদুল আযহা।এই উৎসবটি কুরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। এই উৎসবকে ঈদুজ্জোহাও বলা হয়,ঈদুল আযহা মূলত আরবি বাক্যাংশ। এর অর্থ হলো ‘ত্যাগের উৎসব। এই উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল ত্যাগ করা। এ দিনটিতে মুসলমানেরা ফযরের নামাযের পর ঈদগাহে গিয়ে দুই রাক্বাত ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করে ও অব্যবহিত পরে স্ব-স্ব আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ ও উট আল্লাহর নামে কোরবানি করে থাকে।
সাধারনত এই ইদে নতুন পোশাকের বিপণীগুলো থেকে পশুর হাট গুলো অনেক বেশী জমজমাট থাকে।প্রতিবছরের ন্যায় এবারও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ব্যাবস্থাপনায় নগরীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট জোড়াগেট এলাকায় বসেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,ইদ শুধুমাত্র পশুরহাট নয় বরং কামার পল্লীতেও জমে উঠেছে ইদ আনন্দ সাথে ব্যাস্ততা।
কামার শিল্পী নজ্রুল বলেন,সারা বছর এই কোনবানির ঈদের জন্য অপেক্ষায় থাকি আমরা। এ সময়টিতে যারা কোরবানির পশু জবাই করেন তারা প্রত্যেকে চাপাতি, দা, বটি, ছুরি তৈরি করেন। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে এ সময়টিতে কাজ বেশি হওয়ার কারনে লাভও বেশি হয়। কিন্তু লোহার দাম এবং কয়লার দাম বেশি থাকায় মজুরি একটু বেশি নিতে হচ্ছে । ইতিমধ্যে আমাদের পরিচিত কিছু গ্রাহক দা, বটি, ছুরি বানানোর অর্ডার দিয়ে গেছে এবং শাণ দিতে অর্ডার পেয়েছি। পাশাপাশি নতুন বটি, ছুরি তৈরি করছি। বিশেষ করে কোরবানির ৩ থেকে ৪ দিন আগে গ্রাহকের আনাগোনা বেড়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
পল্লীর অন্য শিল্পী আব্দুল গনি জানান, তাদের এই ব্যবসা এখন প্রায় ধংশের মুখে।শুধুমাত্র ইদ আসলেই যতটুকু আয় করা যায়।কারন হিসেবে তিনি বলেন বাজারে এখন চায়না ছুরি,চাপাতি ইত্যাদি চলে আসায় এখন আর কেউ তেমন একটা আমাদের কাছ থেকে এই গুল ক্রয় করেন না।ইদ ছাড়া শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক পশু ব্যাবসায়িরা তাদের ক্রেতা।

এবারের ইদে ছুরি,চাপাতি এই গুলোর দাম জানতে চাইলে তারা প্রতিদিন সেবক কে বলেন,সব কিছুর মূল্য বৃদ্ধির সাথে তাল মিলেয়ে লোহা এবং কয়লার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। গতবছর এর থেকে এবছর লোহার কেজি প্রতি ৬০/১০০ টাকা বেশী। একটি মাঝারি সাইজের চাপাতি কিনতে এবার আপনাকে গুনতে হবে ৪০০/৪৫০ টাকা । যেটি গতবার ছিল ৩০০ টাকা। এছারাও মাংস কাটার খাটিয়া ছোটটা ২৫০ মাঝারি ৩০০ এবং বড়টি ৩৫০/৫০০ পযন্ত আছে।
কামার শিল্পিদের কাছে চাপাতি ক্রয় করতে আসা নাহিদ বলেন,বর্তমানে সকল কিছুর মূল্যই সাধারন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। তিনি নগরীর শেখপাড়া বাসিন্দা।তিনি আরও বলেন,এসেছিলাম গরু দেখতে । এখনও তেমন গরু হাটে আসেনি,কিন্তু বোঝা যাচ্ছে এইবার গরুর দাম ও বৃদ্ধি পাবে।চারপাশে সকল কিছুর মূল্য বৃদ্ধির ভিতর কামরদের এই ৫০/১০০ টাকা বৃদ্ধি আসলে তেমন গায়ে লাগে না।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখনো পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি। ঈদের গরুর বাজার এখনো ভালোভাবে শুরু না হওয়াকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। আগে মানুষ গরু কিনবে পরে ছুরি-চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনবে। তবে কবে থেকে পুরোদমে বেচা কেনা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা প্রতিদিন সেবক কে জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত