ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়ার পর তা সংরক্ষণে থাকে যে অডিট কার্ডে তা গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুই বছর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীর অভিযোগের পর আদালতের আদেশে ভোট পুন:র্গণনা করতে গিয়ে অডিট গায়েবের বিষয়টি ধরা পড়েছে।
রোববার (৬ নভেম্বর) বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে- দুই বছর আগে নির্বাচন শেষে ভোট গণণার পর সব কিছু সিলগালা করা থাকলেও কোথায় গেছে ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে চারটি কেন্দ্রের অডিট কার্ড?
বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলছেন, খোদ নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। তবে বিষয়টি তদন্ত করার কথাও বলছেন তিনি।
আর ভোট পুন:গণনা কমিটির প্রধান ও নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহা-পরিচালক মো. আবদুল বাতেন বলেছেন, ‘অডিট কার্ড গায়েব হওয়ার বিষয়টি ইচ্ছাকৃত হতে পারে। আবার প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ভুলেও হতে পারে।’ তবে কার্ড যে গায়েব হয়েছে তা তিনি স্বীকার করেছেন।
এদিকে চারটি কার্ড গায়েব হয়ে যাওয়ায় ভোটের একই ফল দু’বার গুনেছেন ইসির কর্মকর্তারা।
যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের আদেশে ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ৬ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের ভোট পুন:র্গণনা করা হয়েছে।’
যেভাবে ধরা পড়ল অডিট কার্ড গায়েবের কথা:
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদের পরাজিত প্রার্থী দুই বছর আগে নির্বাচনে তাকে ফলাফল পাল্টে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে করা অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালতের নির্বাচনের ফল পুন:র্গণনা করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দেয়। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, ইভিএমে অনুষ্ঠিত কোনো ভোট সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের আদেশে এবারই প্রথমবারের মতো পুনরায় গণনা করেছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বের কমিশন। সেখানে ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে চারটি কেন্দ্রের অডিট গায়েব হয়ে গেছে।
অডিট কার্ড না পাওয়ায় ভোটের দিন প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দেওয়া ফলের সঙ্গে প্রতিটি ভোটার শনাক্ত করার যে তথ্য সংরক্ষিত ছিল সেগুলো পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ পায়নি কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, অডিট কার্ডে পুরো কেন্দ্রের ফলাফল সংরক্ষিত থাকে। তাই অডিট কার্ড গায়েব হওয়ার বিষটি ইচ্ছাকৃত হতে পারে। আবার প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ভুলেও হতে পারে। তবে অডিট কার্ড ছাড়াই ফলাফল গণনা প্রশ্ন থেকে যায়।
কী বলছে ইসি?
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘সিলগালা বস্তা থেকে অডিট কার্ড গায়েব হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ওই বস্তা প্রিসাইডিং অফিসার দিয়েই খুলতে হয়। যদি কার্ড হারিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব। এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়, অস্বাভাবিক ঘটনা।'
আর ভোট পুনর্গণনা কমিটির প্রধান ও নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক মো. আবদুল বাতেন বলেন, ‘সিলগালা করা বস্তায় অডিট কার্ড প্লাস প্রিজাইডিং অফিসারে রেজাল্ট শিট, ইভিএম থেকে বের হওয়া ফলাফলের প্রিন্ট কপি থাকবে, এটাই নিয়ম। আমরা সিলগালা করা বস্তাগুলো প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রার্থীদের সামনেই খুলেছি কোর্টের আদেশ অনুসারে। তিনটা বা চারটা অডিট কার্ড মিসিং আছে। তবে ওখানে আবার প্রিজাইডিং অফিসারের যে রেজাল্ট শিট, সেটা ছিল এবং ইভিএম থেকে ফলাফলের যে প্রিন্ট কপি থাকে, ভোটের দিন যেটা বস্তার ভেতর দিয়েছিল সেটা পেয়েছি। সবার সামনেই ওটা কাউন্ট করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কমিশন, কোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন, তাতে আমাদের কাজ হলো, যে ফাইন্ডিংস পেয়েছি তা দাখিল করা। আমরা যেটা পেয়েছি বা যেটা পাইনি হুবহু তা কমিশন এবং কোর্টের কাছে দাখিল করবো। কোর্ট ফাইনাল সিদ্ধান্ত দেবেন।’
তাহলে তো কেন্দ্রের ফলাফল আপনারা পুনর্গণনা করতে পারেন নাই- এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল বাতেন বলেন, ‘আমরা তো গণনা করি নাই। যেটা অডিট কার্ড পাইনি, ওইটা আমরা ফাইন্ডিংস দেবো। শুধুমাত্র অডিট কার্ড দিয়ে পুন:র্গণনা হয় না। যেখানে অডিট কার্ড পেয়েছি, সেখানে তো অবশ্যই অডিট কার্ডের তথ্য নিয়েছি, ইভিএমের প্রিন্টেড কপি এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তা স্বাক্ষর করা ফলাফলের কপিও নিয়েছি। আর যেটার অডিট কার্ড পাইনি, সেখানে বাকি দুটোর ফলাফল মিলিয়ে দেখেছি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত