
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে এক চরম দোলাচল দেখা যাচ্ছে। তিনি একদিকে যেমন ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ইঙ্গিতও দিচ্ছেন। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামানো বা আরও জোরদার করা নিয়ে ট্রাম্প এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন।
সম্প্রতি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বিমান ও নৌ বহর সুরক্ষায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে যে তারা কুশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন সফলভাবে গুলি করে নামিয়েছে।
ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় ইরান তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মাঝে তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ শুরু করেছে। বিশেষ করে বুশেহর এবং পিকঅ্যাক্স পর্বতের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশের এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের পারমাণবিক তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন সরকার দুই কোটি ডলার পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে।
নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর ট্রাম্প নিজ দেশে নাগরিকদের অসন্তোষের মুখোমুখি হচ্ছেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি ইরানের দেওয়া সব শর্ত—যেমন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও সম্পদ ফেরত দেওয়া—মেনে নিতে নারাজ। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কৌশলগত অবস্থান ও পাল্টা জবাবের ভীতি ট্রাম্পকে সিদ্ধান্তহীনতায় ফেলেছে, কারণ সীমিত সামরিক অভিযান শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াবে তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
যুদ্ধের হুমকির মধ্যেও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। ইরান নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যেমন একটি নির্দেশ পাওয়া মাত্রই বড় ধরনের অভিযানে নামতে তৈরি, তেমনি ইরানও সতর্ক করে দিয়েছে যে তাদের ওপর পুনরায় হামলা হলে তারা গোটা অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক পাল্টা আঘাত হানবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত