ইরানে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সোমবার ইমাম হাসান আল মুজতাবা ইউনিভার্সিটি অব অফিসার অ্যান্ড পুলিশ ট্রেনিং-এর যৌথ শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি বলেছেন, ‘ইরানে সহিংসতা ও নৈরাজ্যের পেছনে রয়েছে মার্কিন এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। তাদের পরিকল্পনাতেই এসব হয়েছে। এটা সুস্পষ্ট যে ইরানে যেসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে তার পরিকল্পনায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের অনুসারীরা। ইরানের সঙ্গে তাদের সমস্যা হলো এ দেশের শক্তি, স্বাধীনতা ও উন্নয়ন। তবে ইরানি জাতি এসব ঘটনায় নিজেকে শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতেও যেখানেই প্রয়োজন হবে সাহসিকতার সঙ্গে সংগ্রামে অবতীর্ণ হবে।'
তিনি বলেন, একজন ইরানি তরুণী মারা গেলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় আমিও ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু এ ঘটনার তদন্তের আগেই কোনো বিষয়ে নিশ্চিত না হয়েই কিছু লোক প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, কুরআনে আগুন দেবে, পর্দানশীন নারীদের মাথা থেকে হিজাব টেনে খুলে ফেলবে, মসজিদ ও মানুষের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করবে- এগুলো স্বাভাবিক কোনো প্রতিক্রিয়া নয়।
পরিকল্পিতভাবে এমন নৈরাজ্য ও সহিংসতা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এ ইরানি তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা না সংঘটিত হলেও তারা অন্য অজুহাত সৃষ্টি করত যাতে দেশটিতে অনিরাপত্তা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যায়।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন নৈরাজ্য ও সহিংসতার ঘটনা অনেক ঘটে। ইউরোপে বিশেষ করে ফ্রান্সের প্যারিসে কিছু দিন পরপরই এমন সহিংসতা দেখা দেয়। কিন্তু এ পর্যন্ত কি এমন ঘটেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ সেখানকার এমন ঘটনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং বিবৃতি দিয়েছে? এমন ইতিহাস কি আছে যে তারা বার্তা দিয়ে বলেছে আমরা তোমাদের (বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গাকারী) পাশে আছি? এমন ইতিহাস কি আছে যে মার্কিন পুঁজিবাদ এবং সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক কিছু সরকারের মতো মার্কিন অনুচরদের মদদপুষ্ট গণমাধ্যম ওই সকল দেশের বিশৃঙ্লখা ও সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে? কখনও কি এমনটা হয়েছে যে মার্কিনীরা ওই সকল দেশের বিশৃঙ্লখা সৃষ্টিকারীদেরকে বিশেষ হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যার সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে যাতে তারা সহজে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পারে? কিন্তু ইরানে বিশৃঙ্লখা সৃষ্টিকারীদের প্রতি এ ধরণের সহযোগিতা ও সমর্থনের ঘটনা বহুবার ঘটেছে। তাহলে কিছু মানুষ কীভাবে এসব ঘটনায় বিদেশি হস্তক্ষেপ দেখতে পায় না এবং কেন তারা বুঝতে পারে না এসব ঘটনায় অন্যদের হাত রয়েছে?
খামেনি বলেন, ‘ইরানের একজন যুবতীর মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুঃখ প্রকাশ পুরোপুরি মিথ্যাচার। তারা সহিংসতা ঘটানোর জন্য অজুহাত পাওয়ায় আনন্দিত।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, ‘দেশের তিন বিভাগের ((আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগ) কর্মকর্তারা ওই তরুণীর মৃত্যুর পর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিচার বিভাগ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে এ ঘটনায় অপরাধ হয়েছে কিনা অথবা অপরাধী কে তা বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তদন্তের অর্থ এটাই। এ অবস্থায় সেবাদানকারী একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা ভুল করেছে এমন আশঙ্কা থেকে সংস্থাটিকে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে কোনো যুক্তি নেই। এসবের পেছনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং বিদেশি শাসকদের ভূমিকা রয়েছে।’
সূত্র : আল-জাজিরা, প্রেস টিভি
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত