
ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ ফ্রান্সের অগ্রাধিকারে নেই। রোববার ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস রুফো ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে এই মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা এএফপি।
রোববার ফরাসি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ‘লে গ্রঁ জুরিতে’ অংশ নিয়ে অ্যালিস রুফো বলেছেন, আমার মনে হয়, ইরানের জনগণকে যেভাবে সম্ভব সমর্থন করা উচিত। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ ফ্রান্সের পছন্দনীয় বিকল্প নয়। এই শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ইরানি জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ইরানে ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত ‘‘গণ-অপরাধ’’ নথিভুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ থাকায় ৯ কোটিরও বেশি মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের আড়ালে নিরাপত্তা বাহিনী সহিংস দমন অভিযান পরিচালনা করেছে। ওই সময় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস বলেছে, দেশটির সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রাণহানির সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান সরকার বিক্ষোভ-সহিংসতায় ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়েছে দেশটির সরকার; যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ পথচারীরা রয়েছেন। বাকিদের ‘দাঙ্গাবাজ’ বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্ররোচনায় সহিংসতায় জড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
রুফো বলেন, ইরানি জনগণ তাদের শাসকগোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করছে। ইরানের জনগণের ভবিষ্যৎ ইরানিদের হাতেই; আমাদের পক্ষে তাদের নেতা বেছে দেওয়া ঠিক নয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনের প্রতিক্রিয়ায় ইরানে সামরিক হামলার হুমকি দিলেও পরে সুর নরম করেন। তেহরান পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে বলে জানানো হলে অবস্থান কিছুটা বদলান তিনি।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে অর্থনৈতিক দাবিদাওয়া থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতের দাবিতে গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত