
খুলনা বিভাগের দশ জেলা ও মহানগরীতে মোট ৪ হাজার ৮১১টি মন্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ উৎসব পালনে আইনশৃংখলা বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকায় প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এরপর থেকে প্রতিটি মন্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।
সূত্রমতে, খুলনা রেঞ্জ পুলিশের আওতাধীন ১০ টি জেলায় ৪ হাজার ৬৯১ টি এবং খুলনা মহানগরীতে ১২০টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে বিভাগে অধিক গুরুত্বপূর্ণ পূজা মন্ডপ রয়েছে ৭৪৭টি, গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৭১২টি এবং সাধারণ পূজা মন্ডপ রয়েছে ২ হাজার ২৩২টি। ইতোমধ্যে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৫ উপলক্ষে আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে সকল জেলায় পুলিশি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে তৎপর খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি'র আওতাধীন ১০ জেলা পুলিশ। এসপি-ওসির সমন্বয়ে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, কুইক রেসপন্স টীম গঠন, মন্ডপে প্রবেশ-প্রস্থানে মেটাল ডিটেক্টর ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, স্বেচ্ছাসেবক, আনসার ও পুলিশের সমন্বয়ে সম্মিলিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে খুলনা রেঞ্জ পুলিশ।
খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল হক (পিপিএম) এর নেতৃত্বে ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় ইতোমধ্যে ১০টি জেলার পুলিশ সুপার গৃহিত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা পূজামন্ডপগুলোতে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। খুলনা রেঞ্জ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিভাগের প্রতিটি মন্ডপকেই তারা সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। যষ্ঠী হতে দশমি পর্যন্ত টানা ৫ দিনের জন্য পুলিশ ও ৬ দিনের জন্য আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। আবার পূজা কমিটির সাথে আলোচনা করে স্বেচ্ছাসেবক টীম প্রস্তুত করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি'র নেতৃত্বে ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় ১০ জেলার পুলিশ সুপার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করছেন।
সূত্র জানায়, ষষ্ঠী হতে দশমি পর্যন্ত পূজামন্ডপ কেন্দ্রীক অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি জেলা পুলিশ সুপারকে অবজারভার এবং থানা অফিসার ইনচার্জকে রেসপন্ডার হিসেবে ফোকাল টয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ সকল মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুরা পোশাকে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হচ্ছে।
সম্প্রতি শৈলকুপায় দূর্গা প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় মন্দীর পরিদর্শন করে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল হক (পিপিএম) বলেন, রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসাবে, এদেশের সাধারন নাগরিক হিসাবে, অসাম্প্রদায়ীক একজন ব্যক্তি হিসাবে এ কাজটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বলে তিনি মনে করেন। খুলনা রেঞ্জ না দেশের প্রতিটা মন্দীরকে তারা সমান ভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
জানতে চাইলে খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌফিকুর রহমান বলেন, উৎসব শান্তিপুর্ণ করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। দুর্গোৎসবের পাঁচদিন আইন-শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করা হবে। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অপতৎপরতাসহ মাদকের ব্যবহার প্রতিরোধে অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়- নগরীর জেলখানা ঘাট, চরেরহাট, রেলিগেটস্থ নগরঘাট, দৌলতপুর লঞ্চঘাট ও দৌলতপুর দধি বামনঘাট বিসর্জনের স্থান চুড়ান্ত হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত