বর্তমান সরকারের অধীনে ইলেকশন নয়, সিলেকশন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের। তিনি জানিয়েছেন, সংবিধান বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বোঝেন না, সরকারের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হতে হবে।
রোববার (২৩ জুলাই) দুপুরে বনানীর কার্যালয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী জাপায় যোগ দেন।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে ইলেকশন নয় সিলেকশন হতে পারে। সরকার দেশের নির্বাচনব্যবস্থা তছনছ করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ধ্বংস করেছে। একদলীয় সরকার ব্যবস্থা কায়েম করতে চাচ্ছে। পেশাদার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোয় এখন আর নির্বাচন হয় না, সিলেকশন করে দেওয়া হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ধারা ধ্বংস করে কর্তৃত্ববাদী এক নায়কতন্ত্র চালু করেছে। আগামী নির্বাচনেও যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে আর রাজনীতি বা রাজনৈতিক দল থাকবে না। দেশ এক নেতার অধীনে চলে যাবে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা চিরস্থায়ী করা হবে।’
আগামী নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে সেটা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, সে দিকে ইঙ্গিত করে জি এম কাদের বলেন, ‘সংবিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বুঝি না, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিতে চাই। যাতে নির্বাচনে সরকার কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।’
জিএম কাদের বলেন, ‘ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে বিশ্ববাসী দেখেছে দলীয় সরকারের অধীনে কেমন নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সরকার বলছে ১১ শতাংশ ভোট পড়েছে, সাধারণ মানুষের ধারণা শতকরা ৫ ভাগ ভোটও সাধারণ মানুষ দেয়নি। ভোট যা পড়েছে তার প্রায় সবই তারা নিজেরাই দিয়েছে।’
সরকারের সমালোচনা করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তায় আন্দোলনে নামলে নির্যাতন করা হচ্ছে। সরকারবিরোধীদের দমন করতে সব কিছুই করছে। মানুষকে মানুষ মনে করে না, বিরোধীদের ওপর পাখির মতো গুলি করা হয়। বর্তমান সরকারের দমন নীতিতে স্বাভাবিক রাজনৈতিক শক্তির টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই অর্থ ও জনবল না থাকলে মাঠে টিকে থাকা দুরূহ হয়ে পড়েছে।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, ‘জাতীয় পার্টিকে সবচেয়ে বেশি দুর্বল করেছে আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাতে সমর্থন দিয়েছিল জাতীয় পার্টি। তারপর থেকে আওয়ামী লীগ সবসময় জাতীয় পার্টিতে বিভক্তি সৃষ্টি করে রেখেছে। ২০১৪ সালের পর থেকে জাতীয় পার্টির মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। জাতীয় পার্টির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত করেছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে, জাতীয় পার্টি অনেকটা দুর্বল হয়েছে। আমরা এই অবস্থা থেকে বের হতে চাই।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুস সালাম চাকলাদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সৈয়দ শামসুদ্দোহা জুবায়ের, আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত