চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মূল এডিপির তুলনায় সংশোধিত এডিপিতে ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে দুই লাখ সাত হাজার ৫৫০ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা এক হাজার ৭৫৪টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প এক হাজার ৫০৭টি, কারিগরি প্রকল্প ১৪০টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রকল্প রয়েছে ১০৭টি। সংশোধিত এডিপিতে মোট প্রকল্পের মধ্যে নতুন অনুমোদিত প্রকল্প রয়েছে ১৯৯টি।
গত ২ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এই সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ দেড় মাস যেতেই এর মধ্যে ২০০টির বেশি প্রকল্পে পুনরায় বরাদ্দ বাড়ানো-কমানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক প্রকল্পের বরাদ্দ সমন্বয় করা হবে। কোনো প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ বাড়ছে আবারও কোনো কোনো প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ কমছে।
প্রকল্পের বরাদ্দ সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পরিকল্পনা বিভাগে চাহিদাপত্রও দিয়েছে। সব থেকে বেশি বরাদ্দ তারতম্য হচ্ছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, এলজিইডি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
এর আগে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ‘নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ২১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এখন নতুন করে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ফলে এ প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
একইভাবে ‘মৃত্তিকা গবেষণা এবং গবেষণা সুবিধা জোরদারকরণ’ প্রকল্পে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এখন এই প্রকল্পের বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে ১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ফলে প্রকল্পের আওতায় আরও তিন কোটি ২৯ লাখ টাকা বাড়তি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে চলমান ও অনুমোদিত ২৬টি প্রকল্পের বরাদ্দ পুনঃনির্ধারণ করা হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট তিন হাজার ১২৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত অনুমোদিত প্রকল্পসমূহের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন এবং শতভাগ অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে ২৬টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। তবে কিছু প্রকল্পের আবার বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি প্রকল্পে ৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা কমছে এবং আটটি প্রকল্পে ৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণ করা সম্ভাব না হওয়া, পুনরায় দরপত্র আহ্বান, কোভিড-১৯ জনিত কারণে আঞ্চলিক কর্মশালা সম্পন্ন করতে না পারা এবং নির্মাণ কাজের কম অগ্রগতি ইত্যাদি কারণে এসব প্রকল্পের বরাদ্দ হ্রাস-বৃদ্ধি করে পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, এটা মন্ত্রণালয় ভিত্তিক বরাদ্দ উপযোজন। এক প্রকল্পের টাকা অন্য প্রকল্পে চলে যাচ্ছে। অনেক প্রকল্প আছে বাড়তি বরাদ্দ প্রয়োজন, আবার কিছু প্রকল্প রয়েছে বরাদ্দের টাকা খরচ হচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির গতি বাড়াতেই উপযোজন চলমান। এটা চলবে ২৫ মে পর্যন্ত।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কৃষি, শিল্প ও সমন্বয় উইং) মো. ছায়েদুজ্জামান বলেন, এবারও দুই শতাধিক প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়বে-কমবে। তবে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক ব্যয় উপযোজন হবে। যেমন কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রকল্পে হয়তো টাকা পুরো খরচ হচ্ছে না, আবার অন্য প্রকল্পে হয়তো টাকা বাড়তি লাগবে। তখন যে প্রকল্পের টাকা খরচ হচ্ছে না- সেই টাকা অন্য প্রকল্পে স্থানান্তর করা হবে। এতে করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন বেশি হবে। তবে ২৫ মে’র পরে এই সুযোগ থাকবে না।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত