তুরস্কে দ্বিতীয় দফার ভোটেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভাগ্য। আজ রোববার জানা যাবে তিনি ফের ক্ষমতায় আসছেন, নাকি আমলা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া কেমাল কিলিচদারগ্লু প্রথমবারের মতো মসনদে বসছেন।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এর পরই শুরু হবে গণনা। এদিন প্রথম দফায় সবোর্চ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীকে ভোট দিবেন ৬ কোটি ৮০ লাখের বেশি ভোটার।
প্রথম দফায় কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় আজকের এ ভোটে নির্ধারিত হবে তুরস্কের নতুন প্রেসিডেন্ট, যার দিকে চোখ গোটা বিশ্বের। তবে প্রথম দফার নির্বাচনে তৃতীয় হওয়া সিনান ওগান এরদোয়ানকে সমর্থন দেওয়ায় আবারও ক্ষমতায় থাকার ভাগ্য অনেকটাই ঝুকে আছে এরদোয়ানের দিকে। আবার প্রথম দফায় ১২ লাখ ভোট পাওয়া ভিক্টোরি পার্টি কিলিচদারগ্লুকে সমর্থন দেওয়ায় দেখা দিয়েছে টান টান উত্তেজনা। তাই দুজনের জন্যই দ্বিতীয় দফার ভোট হয়ে উঠেছে ‘অগ্নিপরীক্ষা’।
কালবেলা পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তুরস্কের এবারের জাতীয় নির্বাচনে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি দেখা গেছে। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হতে হলে কোনো প্রার্থীকে ৫০ শতাংশ ভোট পেতে হবে। কিন্তু গত ১৪ মে প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট পাননি। তাই নির্বাচন গড়ায় দ্বিতীয় দফায়। প্রথম দফার ভোটে এরদোয়ান ৪৯ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন, আর কেমাল পেয়েছিলেন প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট। প্রথম দফার ভোটের ফলে এরদোয়ানের চেয়ে প্রায় ২৫ লাখ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন কেমাল।
আর সিনান ওগান ছিলেন তৃতীয় অবস্থানে। তার ঝুলিতে যায় ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ ভোট। এখন দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সিনান সমর্থন দিয়েছেন এরদোয়ানকে। ফলে সিনান ওগান একজন কিংমেকার হয়ে উঠেছেন। তাই এরদোয়ানের ফের ক্ষমতায় আসাটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে অনেকে মনে করছেন।
গতকাল শুক্রবার শেষ সময়ের প্রচারণায়ও ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন দুই প্রার্থী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও কেমাল কিলিচদারোগ্লু। এরদোয়ানের অভিযোগ, কেমাল ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। রাজধানী আঙ্কারায় এদিন এক সমাবেশে এরদোয়ান বলেন, নির্বাচনে কেমালের জয় হলে সন্ত্রাসবাদ জিতে যাবে। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কেমালের ওঠাবসা বলেও অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে কেমাল সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থীদের ইস্যু সামনে এনে জাতীয়তাবাদী ভোট নিজের ঝুলিতে ভরার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে অবশ্য এরদোয়ান বলেছেন, এরই মধ্যে সিরীয় শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি। আবারও ক্ষমতায় গেলে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। আরও বেশিসংখ্যক শরণার্থীকে ফেরত পাঠানো হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত