মে মাসের ১৩ তারিখ নতুন কমিটি পায় রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ। সে হিসেবে কমিটির বয়স মাস পার না হতেই সমালোচনার মুখে পড়লো ছাত্রলীগের এই দুটি ইউনিট। ইডেন কলেজে বিবাহিতদের কমিটিতে জায়গা পাওয়া নিয়ে সমালোচনায় যখন ভাটা পড়েছে তখন হলের এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ এলো বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সেলিনা আক্তার শেলীর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩ জুন) রাতে হামলায় আহত হয়ে বাঁধন নামে এক আবাসিক শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাঁধন সাধারণ সম্পাদক হাবীবা আক্তার সাইমুনের বলয়ের বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবীবা আক্তার সাইমুন থাকেন কলেজটির নতুন হলে। অন্যদিকে সভাপতি সেলীনা আক্তার শেলী থাকেন পুরাতন হলে।
অভিযোগ আছে, কমিটি হওয়ার পর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শেলী নতুন হলের সিট দখলে নেওয়ার চেষ্টা ও বৈধভাবে সিটের জন্য চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আজ (শুক্রবার) হঠাৎ কয়েকটি কক্ষে দলবল নিয়ে হামলা করে শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতেই মূলত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত বাঁধনের অভিযোগ— সভাপতি নিজেই হামলা করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন শেলী। বলেছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি— নতুন কমিটি হওয়ার পর মেয়েদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া হয়নি। সাধারণ সম্পাদক নতুন বিল্ডিংয়ে। আমি পুরাতন বিল্ডিংয়ে থাকি। নতুন বিল্ডিংয়ের মেয়েদের সঙ্গে পরিচিত হতে যাই। গিয়ে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলি। নির্দেশনা দেই। তাদের বলি, আমাদের মেনে চলবা। তোমাদের ভালোর জন্যই এসেছি।
এদিকে হামলায় আহত বাঁধনের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ করলেন বদরুন্নেছা ছাত্রলীগের এই নেত্রী। তিনি বলেন, বাঁধন নামে একজন ওই রুমের মেয়েদের বলে কেউ যেন বের না হয়। তখন আমাদের রাগ হয় এবং আমি তার দিকে আঙুল দেখিয়ে বলি, তুমি কাকে কী বলছো? এনিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সে আমার মুখে খামচি দেয়। আমার তলপেটে আঘাত করে। আমি তার গায়ে হাত দেইনি।
তবে শেলীর এমন বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বাঁধন বলেন, শেলী আপার একটা ব্যানার খোলার সময় আমি ধরেছিলাম সেটা থেকেই তিনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। ঘাড় ধরে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আজকে আমার রুমে এসে শেলী আপুসহ অন্যরা অতর্কিত হামলা করেছেন। আমার চুল টেনে ধরে কিল, ঘুষি দিয়েছেন। আমার পাশের রুমের মেয়েরা অনেক চেষ্টা করছে আমাকে রক্ষা করতে তারপরও আমাকে অনেক মেরেছেন। প্রথম হামলা করেছেন সভাপতি। আমি ভয়ে আছি। এই ঘটনার বিচার চাই।
বাঁধনের ভাই আমিনুল ইসলাম রাতে কলেজ ফটকের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, আমার বোন বিকেলে ফোন করে বলছে তাকে সভাপতি শেলী প্রায় হুমকি দেয়, সিট নিয়ে ঝামেলা করে, সিটের জন্য চাঁদা চায়। সন্ধ্যায় তার রুমে দলবল নিয়ে এসে হামলা চালায়। এভাবে যদি পড়তে এসে মারধর করা হয়, তাহলে এটা অনেক বেশি দুশ্চিন্তার। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি আরও দায়িত্ব পেয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আখিনুর আক্তার অনু, রিমা আফরিন, মারুফা আক্তার শ্রাবনী ও মোছা. খাদিজা ইসলাম।
এদিকে মারামারির পর ঘটনাস্থলে চকবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে জানিয়েছেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদুদ হওলাদার।
পি এস/এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত