চলতি মাস আগস্টে কমেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এই মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০৪ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার, এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। কিন্তু জুলাই মাসের প্রবাসী আয় ছিল ১৯৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।
রোববার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে বিষয়টি জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৮ দিনে ১০৪ কোটি ৫ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (এক ডলার সমান ১০৯ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ১১ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। এ ধারা অব্যাহত মাস শেষে ১৮০ কোটি ডলার বা ১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসে দেশে, যা গত জুলাই মাসের চেয়ে কম।
চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮৯ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
এই সময়ে ৮ ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক।
চলতি বছরের জুন মাসে রেকর্ড ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল দেশে, যা তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল।
এর আগে, ২০২০ সালের জুলাই মাসে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেকর্ড প্রবাসী আয় এসেছিল। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে ২০২০ সালে হুন্ডি বন্ধ থাকায় ব্যাংকিং চ্যানেলে সর্বোচ্চ সংখ্যক রেমিট্যান্স এসেছিল।
এদিকে বিদায়ী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২ হাজার ১৬১ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এটি এযাবৎকালের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে করোনাকালীন ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আসে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাইতে ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার, আগস্টে ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার, সেপ্টেম্বরে ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ, অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার, নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার, ডিসেম্বরে ১৬৯ কোটি ৯৭ লাখ, জানুয়ারিতে ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ৭০ হাজার, ফেব্রুয়ারিতে ১৫৬ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার, মার্চে ২০২ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ১০ হাজার, মে মাসে ১৬৯ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ও জুন মাসে এসেছিল ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত