দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। এই বিশাল ক্রীড়াযজ্ঞে ৩২টি দেশ লড়বে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লক্ষ্যে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে এ বছরের নভেম্বরে শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২২তম আসর। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রভাব ফেলতে পারে বিশ্বকাপের আসরে। কাতার বিশ্বকাপের সময় নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে ইসরায়েলি নাগরিকদের কাতার প্রবেশে। এমনটি হলে তারা পারবে না বিশ্বকাপের মাঠে বসে খেলা দেখতে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে আরব নিউজের প্রতিবেদনে। তারা বলছে, নিরাপত্তাহীনতার কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের কাতার আসতে দিতে চায় না ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা।
ফুটবল বিশ্বকাপে ইসরায়েল কোয়ালিফাই করতে না পারলেও এই বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে তাদের আগ্রহের কমতি নেই। কাতার বিশ্বকাপে খেলা দেখতে প্রায় ১৫ হাজারের মতো ইসরায়েলি নাগরিক টিকেট কিনেছে। স্পোর্টস এজেন্সিগুলোর ধারণা, কাতার বিশ্বকাপের সময় সে দেশটাতে অন্তত ২৫-৩০ হাজার ইসরায়েলি নাগরিক ভ্রমণ করতে পারে। তবে তাদের আসাটা নির্ভর করছে ইসরায়েলি সরকারের মর্জির উপরে। বিশ্বকাপের সময় নিজেদের নাগরিকদের কাতারে যেতে দেওয়া হবে কি-না, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে জরুরি মিটিং ডেকেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল।
ইসরায়েলের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার সে দেশের নাগরিকদের জন্য নিরাপদ নয়। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকিতে কাতার বিশ্বকাপে ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে অপারগ সে দেশের সরকার। কারণ দোহার সঙ্গে কোন ধরণের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই তেল আবিবের। এছাড়াও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক সংগঠন হামাসের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে কাতারের। কাতার বিশ্বকাপ দেখতে কাতারের মিত্র দেশ ইরান থেকেও ঘটবে বিশাল দর্শক সমাবেশ, যা দেশটির নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য হতে পারে হুমকিস্বরুপ।
ইসরায়েল টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , এটা কোনো সাধারণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ না। এর জন্য প্রয়োজন কাতার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা, যা এখনও নিশ্চিত নয়; যেটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পর আমরা জানতে পারব এটা করা যায় কি না ও কীভাবে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিবেচনায় কোনো চুক্তি না হলে, কাতার ভ্রমণ এড়ানোর সুপারিশ থাকতে পারে।
সে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ও কাতারের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব কম হওয়ায় লাখ লাখ ইরানি দর্শক বিশ্বকাপ দেখতে সেখানে যাবে। এই কারণে অনেক 'শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশের' কাছাকাছি থাকা ইসরায়েলিদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক দ্বিতীয় কোন দেশের পাসপোর্টধারী হওয়ায় তারা ইসরায়েলি পরিচয় গোপন করেও দ্বিতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে কাতারে প্রবেশ করতে পারবে। এভাবে প্রচুর ইসরায়েলি বিশ্বকাপের মাঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভৌগলিকভাবে এশিয়ায় অবস্থিত হলেও ফুটবল দল হিসেবে ইসরায়েল ইউরোপিয়ান অঞ্চলের হয়ে প্রতিযোগিতা করে। বিশ্বকাপে সর্বশেষ ১৯৭০ সালের আসরে তাদের খেলতে দেখা গিয়েছিল।
পিএসএন/এমঅাই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত