
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিহত দরবার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. হোসেন ইমাম।
তিনি জানান, ময়নাতদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, গোটা শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং মাথা, ঘাড়, পিঠে তুলনামূলক গভীর জখমের চিহ্নের আলামত দেখা যায়।
তিনি আরও জানান, ময়না তদন্তকারী ডাক্তারের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে একাধিক জখমের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে আব্দুর রহমান ওরফে শামিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দৌলতপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতের মরদেহ এখনো কুষ্টিয়ায় মর্গে রয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থানে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শামিমকে একটি অনুষ্ঠানে ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে ঘটনাস্থলেই শামিম নিহত হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নিহত শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে। এর আগে ২০২১ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত