বরাবরই ‘বঞ্চিত’ হয়ে আসছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও জবি শাখা ছাত্রলীগ উপেক্ষিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কমিটিতে এই শাখা থেকে মাত্র সাতজন জনকে পদ দেয়া হয়েছে।
আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় ৮ মাস পর গত ১৩ জুলাই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। এবারের কমিটিতে জবি শাখা ছাত্রলীগের দুই ডজনেরও বেশি নেতা পদপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু ৩০১ সদস্যের বিশাল এই কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন জবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাত নেতা। তারা হলেন— সহ-সভাপতি পদে আল আমিন শেখ ও আসাদুল্লাহ আসাদ, উপ প্রচার সম্পাদক পদে শাহবাজ হোসেন বর্ষণ, উপ স্কুল বিষয়ক সম্পাদক পদে আল মামুন, উপ সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে আসাদুজ্জামান আসাদ, উপ কর্মসূচী ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক পদে নুরুল আবছার, সহ সম্পাদক পদে সাব্বির আহমেদ।
এর আগে, শোভন-রাব্বানী কমিটিতে কেন্দ্রীয় পদে ছিলেন মাত্র ছয় জন।
কেন্দ্রীয় কমিটিতে অধিকাংশ পদ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিপরীতে মাত্র সাতটি পদ দেওয়া হয়েছে জবি ছাত্রলীগকে। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই শাখাকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। পুরান ঢাকার নিত্যদিনের সমস্যা, হলবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনৈতিক সংকট ইত্যাদির সাথে লড়াই করে রাজনীতি করেও ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক’ মনোভাবের কারণে জবির অনেক নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারে না বলেও মত তাদের। এতে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল ও প্রান্তিক নেতারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলে মনে করছেন তারা।
ছাত্রলীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, বরাবরের মতো এবারও জগন্নাথ ছাত্রলীগ বঞ্চিত হয়েছে। অথচ এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতি সুপার ইউনিট হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। এখান থেকেই মধুতে রেগুলার মিছিল যায়, পার্টি অফিস সরগরম থাকে। অথচ আমরাই বঞ্চিত হই প্রতিবার। অনেকে বিভিন্ন হামলায় শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যেও কাউকে সন্তোষজনক পদে মূল্যায়ন করা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে মেধাবীরা রাজনীতিতে আগ্রহ হারাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‘বরাবরের মতোই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। পরীক্ষিত ছাত্রনেতাগুলো দীর্ঘ ১ যুগ সার্ভিস দিয়েছে। শূন্য হাতে বিদায় দিলেন।দুঃখজনক। সবাই জগন্নাথে পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ ছাত্রলীগে প্রত্যেকের তিনটা/চারটা পোস্ট রয়েছে, পূর্বের কমিটিতে সবাই উপ-সম্পাদক ছিলো সুপার একটা ইউনিটের ক্যান্ডিডেট ছিলো বড় বড় গ্রুপ চালিয়েছে। খামখেয়ালিভাবে মুখস্থ উপ-সম্পাদক দেওয়া হলো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাদের কোণঠাসা করে রাখা হয় বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। একটা সুপার ইউনিট যেখানে শতশত মেধাবী এবং যোগ্য কর্মী রয়েছে সারাবছর দলের জন্য অমানুষিক পরিশ্রম করে, দিন রাত প্রটোকল দেয় বিনিময়ে কমিটি হলে নামমাত্র কয়েকটা পোস্ট।’
কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ‘পদ বঞ্চিত’ অনেক নেতাকর্মী রাজনীতি থেকে নিজেদের অবসরেরও ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত