তামিম ইকবাল রানে ফিরেছেন। ঢাকায় দুই ম্যাচে ৪৫ বলে যথাক্রমে ৫০ ও ৫২ করা তামিম চট্টগ্রামে এসে প্রথম ম্যাচেই মাঠ মাতিয়েছেন। ১৭৩ প্লাস স্ট্রাইকরেটে দারুণ শতক উপহার দিয়ে আবার পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এলেন দেশসেরা ওপেনার।
বন্দর নগরীতে এসে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন মুশফিকুর রহিমও। আর রিয়াদও রানেই আছেন। সঙ্গে বিদেশি বিশেষ করে আন্দ্রে ফ্লেচার, বেনি হাওয়েল, ফাফ ডু প্লেসি, ক্যামেরন ডেলপোর্টরাও চট্টগ্রামের ব্যাটিং সহায় উইকেটে গিয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল। যত সময় গড়াচ্ছে প্রায় সব দলের বিদেশি ব্যাটারদের ব্যাট উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে। আলো ছড়াচ্ছে। তাদের ব্যাট শাসন করছে বোলারদের।
কিন্তু তুলনায় বাংলাদেশের তরুণরা একদম নিষ্প্রভ। নাজমুল হোসেন শান্ত, নাইম শেখ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, নুরুল হাসান সোহান, শামীম পাটোয়ারী, মোহাম্মদ মিঠুন- কেউই রানে নেই।
আর দু’একজনে ব্যাটে যাও রানের ফলগুধারা বয়েছে, তারাও একটি পর্যায়ে গিয়ে অনাবশ্যক আউট হয়ে সুযোগ হারাচ্ছেন বড় ইনিংস খেলার।
মাহমুদুল হাসান জয়কে দিয়ে শুরু করি। বিপিএলের অভিষেকে কী দারুণ ব্যাটিংটাই না করলেন মাহমুদুল হাসান জয়। টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্টদের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই ৭৮ রানের দারুণ আত্মবিশ্বাসী ইনিংস উপহার দেয়া এ তরুণ বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই রেখেছেন সম্ভাবনার ঝিলিক।
গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকার শেরে বাংলায় ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে বিপিএলের প্রথম ম্যাচেই মাঠ মাতিয়েছেন ২০ বছরের জয়। তেড়ে-ফুড়ে ব্যাট না চালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ক্রস ব্যাটে না মেরে কিংবা অতিমাত্রায় ‘ইম্প্রোভাইজড’ শট না মেরেও যে টি-টোয়েন্টিতে রানের চাকা সচল রাখা যায়, জয় চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।
ব্যাকরণের বাইরে না গিয়ে সব ক্রিকেটীয় শট খেলেই পঞ্চাশের দোরগোড়ায় (৩৪ বলে ৬ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৪৮) চলে যান তিনি। কিন্তু তারপর হঠাৎ ইনিংসের ৪৮ রানে আউট হয়ে ফিরে আসলেন। পরিণতিতে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে ফিফটি অধরা থেকে যায় তার।
প্রায় একই পথে হাঁটলেন ফর্মের চুড়ায় থাকা লিটন দাসও। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টেস্টে দারুণ শতক হাঁকানো লিটন আজ সোমবার চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে বিপিএলে প্রথম মাঠে নেমেই চোখ জুড়ানো ব্যাটিং করলেন।
অংকের হিসেবে মেলানো যাবে না, বলে বোঝানোর উপায়ও নেই যে, লিটন কত ভাল ব্যাটিং করেছেন। আজ চট্টগ্রামের বোলারদের বিপক্ষে বিশেষ করে বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ আর থার্ড পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর বলে লিটনের বাহারি শটগুলো দেখে মুগ্ধ সবাই।
এবারের বিপিএলে প্রথম ম্যাচ। তাই শুরুর এক দুই ওভার একটু রয়ে সয়ে খেলেছেন। তারপর শুরু হলো মারের তোড়। প্রায় সব ওভারেই বাউন্ডারি। কিন্তু তেড়েফুঁড়ে নয়, একদম ব্যাকরণ মেনে। শুদ্ধ গাণিতিক শটে। দেখে মনে হলো যেন মাখনে ছুরি চালাচ্ছেন। অথচ সেগুলোই চোখের পলকে ফিল্ডারদের নাগালের বাইরে দিয়ে চলে গেল সীমানার ওপারে।
চট্টগ্রাম বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে পরপর দুই বলে ছক্কা ও বাউন্ডারি দিয়ে শুরু লিটনের বাহারি আর দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোক প্লে। প্রথমে এগিয়ে এসে সোজা ব্যাটে ছক্কা। ঠিক পরের বলে পুল খেলে বাউন্ডারি মিড উইকেট দিয়ে। পরের ওভারেই আগের ম্যাচের হ্যাটট্টিকম্যান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীকে সর্বশান্ত করে এক ওভারে মারলেন তিন বাউন্ডারি।
পি এস/এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত