
খুলনা(১০ সেপ্টেম্বর)
দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ বাস্তবায়ন উপলক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রতি শনিবার প্রত্যেক অফিস চত্বর ও বাজার পরিচ্ছন্ন করাসহ জনসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচার প্রচারণা বৃদ্ধি করা, ওয়ার্ড পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠন, সরবরাহকৃত ঔষধ পরীক্ষা এবং বর্তমানে ব্যবহৃত ঔষধের থেকে আরো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ঔষধ ব্যবহার করা যাবে কি না সে বিষয়ে খুলনার দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ববিদের সহযোগিতা নেয়াসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
এছাড়া সভায় ১৮ হাজার ম্যানহোলে ঔষধ স্প্রে করা, ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের আরো ৩টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন, মেডিকেল কলেজের অভ্যন্তরে প্যান্ডেল নির্মাণের মাধ্যমে ছিট সংখ্যা বাড়ানো, স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারী বিতরণসহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মোতাবেক ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে দেশের সকল জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। শহিদ হাদিস পার্ক থেকে অনলাইনে সরাসরি সংযুক্ত থেকে খুলনায়ও এ কর্মসূচি শুরু করা হবে। তারই প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে আর কি কি কার্যক্রম হাতে নেয় যায় সে বিষয়ে মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে আজ এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তৃায় প্রশাসক বলেন, দেশের যে কয়টি অঞ্চলে ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তারমধ্যে খুলনা একটি। চলতি মাস ও আগামী মাসে ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, গত ৮ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে জরুরি সভা করেন এবং সভায় তিনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।
সভায় প্রশাসক ডেঙ্গু প্রতিরোধে গত তিন মাসে কেসিসি কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, চলতি মাস ও আগামী মাস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারি অফিসসমূহের অভ্যন্তরীণ স্থান এবং নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনা নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধি, নাগরিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীসহ নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত