লক্ষ্মীপুরে জেলে পরিবারের দুই কিশোরকে মারধর ও মাটিতে ফেলে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৯ মে) সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট ঘাট এলাকার অদূরে মেঘনা নদীর মোহনায় নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিশুরা হলো— মো. অন্তর (১০) ও মো. মিরাজ (১২)। আহত অন্তর ও রিয়াজ সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট এলাকার মেঘনা নদীতে ভাসমান (মানতা) জেলে সম্প্রদায়ের আলমাস ও রফিক মাঝির ছেলে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে আহত কিশোরকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসতে বাধ্য হন ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ড আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয় ও আহতদের স্বজনরা জানান, দুপুরে মজু চৌধুরীরহাট ঘাটের অদূরে মেঘনা নদীর পাড়ে নৌকা রেখে হাতিয়ে মাছ ধরছিল অন্তর ও রিয়াজ নামে ওই দুই কিশোর। এসময় কোষ্টগার্ড সদস্যরা নদীতে টহলরত ছিলেন। অন্তর ও রিয়াজকে নদীর পাড়ে দেখতে পেয়ে কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাদের ডাক দেয়। পরে কোস্টগার্ডের সদস্যদের দেখে অন্তর ও মিরাজ ভয়ে কূলে উঠে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করে। পরে কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার আনোয়ার হোসেন লাঠি দিয়ে ওই দুই কিশোরকে মারধর করে। এক পর্যায়ে অন্তর নামে কিশোরটি মাটিতে পড়ে গেলে কোস্টগার্ডের (সিসি) আনোয়ার হোসেন তার বুকের উপর পা দিয়ে মাড়িয়ে নির্যাতন চালায় করে বলে অভিযোগ করে আহত ওই দুই কিশোর। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে আহত ওই দুই কিশোরকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন অভিযুক্ত কোস্টগার্ডের এ কর্মকর্তা।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ডিউটি অফিসার ডা. কমলাশীষ রায় বলেন, লক্ষ্মীপুর কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন আহত অবস্থায় দুই কিশোর হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎস্যা দেওয়া হয়েছে। অন্তর নামে কিশোরটির বুকের ডাক্তারি পরীক্ষার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বলা যাবে।
এদিকে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দোহাই দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি অভিযুক্ত কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ড আনোয়ার হোসেন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত