ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ভারতের নারী ক্রিকেট দলের পেসার ঝুলন গোস্বামী। যে দলের বিপক্ষে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ‘চাকদা এক্সপ্রেস’ সে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই তার সমাপ্তি ঘটেছে। ২০০২ সালে ভারতের নারী ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ঝুলন নিজের নামের পাশে লিখিয়েছেন একের পর এক রেকর্ড। নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক উইকেট শিকারি এ ডানহাতি বোলার।
২০২২ নারী বিশ্বকাপ ক্রাইস্টচার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গ্রুপ-পর্যায়ের ম্যাচে শেষ ওভারে আহত হয়ে পরেন গোস্বামী। তখন গোটা নারী ক্রিকেট ভক্ত ভাবতেই শুরু করেছিল হয়তো এখানেই কিংবদন্তির ক্যারিয়ার নীরবেই শেষ হয়ে যাবে।
কারণ, ভারতীয় ক্রিকেটারদের মাঠে থেকে অবসর নেওয়া খুব কমই চোখে পরে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই নিজেকে বারবার ভাগ্যবান বলেন ঝুলন, সত্যিই তিনি তাই। কারণ আজ লর্ডসে ভক্ত ও সহকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বসিত হয়ে তাকে বিদায় জানিয়েছে গোটা লর্ডসের ক্রিকেট প্রেমীরা। এমন কি ভারতীয় ক্রিকেটের সাম্প্রতিক চিত্র দেখলে জবাব মিলবে মাঠে থেকে বিদায় নেওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা বলা কঠিন।
খেলার মাঠ থেকে অবসরের সুযোগ, সকলের ভাগ্যে জোটে না। যদি দেখি খুব বেশি দূর যেতে হবে না। রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, বীরেন্দ্র সেওয়াগ, জাহির খানের মতো তারকা ক্রিকেটাররা মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৫৩ উইকেট শিকারি এ বোলার তার পাশে লিখিয়েছেন অনেক কীর্তি। নারীদের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৪৩ উইকেট নিয়েছেন গোস্বামী। ২০০৭ সালে আইসিসির বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
এমন কি ঝুলনের সতীর্থ-বন্ধু, যাকে ছাড়া কোনও দিন আন্তর্জাতিক ওয়ান ডে ম্যাচ খেলেননি ঝুলন, সেই মিতালি রাজও কিন্তু মাঠ থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ পাননি।ঝুলন গোস্বামী, মাঠ থেকে অবসর নিতে পারছেন, তাঁর কাছে সত্যিই একটা স্মরণীয় হবার দিন।সৌভাগ্যক্রমে, শচীন টেন্ডুলকারের মতো সেলিব্রেট না হলেও, গোস্বামী তার প্রাপ্য সম্মাননা পেলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত