
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, টানা বর্ষণে হাওর অঞ্চল ও বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং উজানের পানি আসার কারণে কোনো কোনো জেলায় দেখা যাচ্ছে যে, ৪০ ভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৬০ ভাগ ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। আমরা যেহেতু ডিজাস্টার নিয়ে কাজ করি, দুর্যোগ হলে আমরা সেখানে কাজ করতে যাচ্ছি। আমরা সেখানে একটি তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করেছি, ছয়টি জেলায়। প্রায় এক লক্ষ পরিবারকে আমরা চিহ্নিত করেছি কম-বেশি কোনো কোনো জেলায়। আগামী তিন মাস তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দেব এবং কিছু খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে সেই অঞ্চলে।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের পর ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, কৃষি পুনর্বাসনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হবে। আর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে এই যে বারবার হাওর অঞ্চলে যে ক্ষতি হচ্ছে, এটি একটি গবেষণার বিষয়। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামীকাল আমি, কৃষিমন্ত্রী, আমাদের অর্থ উপদেষ্টা এবং আমাদের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, আমরা চারজন যাচ্ছি সুনামগঞ্জ।
বজ্রপাতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বজ্রপাতকে ডিজাস্টার হিসেবে ঘোষণা করা আছে এবং এ বছরও বজ্রপাতে আমরা দেখছি অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। সেসব পরিবারের জন্য মাঠ পর্যায়ে আমাদের যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্লক সুপারভাইজার যারা রয়েছে, আরও মাঠের যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তারাই এটা তৈরি করছেন মাঠ পর্যায়ে।
তিনি বলেন, বজ্রপাত সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ বছরও হচ্ছে। আমরা এখানে কৃষকরা যাতে ওই সময়ে, বিশেষ করে যারা ধান কাটার অবস্থায় থাকেন, তাদের আমরা শেল্টার বানাবো আগামী বছর। এটা আমরা আজকে জেলা প্রশাসকদের বলছি, ওনারা অ্যাসেসমেন্ট করবেন। হাওর এবং উত্তর অঞ্চলে এটা ব্যাপকভাবে হয়। আমরা সেখানে শেল্টার বানাবো এবং সেখানে আমরা টাওয়ার করে দেব যাতে বজ্রপাতের নিরোধ হয় এবং তারা ওই সময় আশ্রয় নিতে পারে। সেখানে আমরা সাইরেন দিয়ে সব কৃষককে অ্যালার্ট করে দেব।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্যোগ নিয়ে আমরা তিনটা স্তরে কাজ করে থাকি। দুর্যোগ শুরু হওয়ার পূর্বকালীন আমরা কিছু সতর্কবাণী দিয়ে থাকি। প্রস্তুতির মধ্যে আমরা বলি যে এই সব আশ্রয়কেন্দ্র যেগুলো আমরা নির্মাণ করেছি, অথবা যেগুলো স্কুল-প্রতিষ্ঠানে আছে, সেখানে আশ্রয় নিতে বলি। দুর্যোগ চলাকালীন আমরা তাদের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে তাদেরকে সহায়তা করি। আবার দুর্যোগের পরে তাদের পুনর্বাসনের কাজগুলো করি। তিনটা স্তরে আমরা কাজ করে থাকি। এবারেও সে প্রস্তুতি আমাদের আছে বলেও জানান মন্ত্রী।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত