গল্পটা সফলতার। সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, শত কটুক্তি সহ্য করে, লড়াই সংগ্রামে তৈরি হওয়া একটি সফলতার গল্প। দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে খাগড়াছড়ির অদম্য সাহসী কন্যার সংগ্রামের গল্প। দেশের সীমানা পেরিয়ে এবার আরও উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে সেনারি চাকমা যাচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগালে। এমন খবরে আনন্দের বাতাস বইছে জেলাজুড়ে।
শুরুটা টিভিতে খেলা দেখার মধ্য দিয়ে। একদিন টিভিতে দেখছিলো ফুটবলে খেলেছে কয়েকটি মেয়ে। তারও ইচ্ছে জন্মাল, তৈরি হলো আগ্রহ। ২০১৬ সালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট দিয়ে খেলা শুরু তার। গতি, বুদ্ধি আর শক্তিতে প্রথম খেলাতেই বড়দের মন জয় করেন এই ক্ষুদে ফুটবলার।
এক জোড়া বুট অমার ছিল না। একটা জার্সি কেনার টাকা ছিল না। অভাবে কারণে প্রায় সময় স্কুলেও যাওয়া হতো না। কিন্তু হাল ছাড়িনি। আমার স্বপ্ন হচ্ছে আমি একদিন জাতীয় দলে খেলব। দেশের সুনাম বয়ে আনব।
জেলাভিত্তিক নারী দল থেকে এসে পড়ে ডাকও। আক্রমণাত্মক খেলে মিডফিল্ডার হিসেবে দ্রুতই দলে জায়গা পাকা করেন সেনারি। গত বছর প্রমীলা ফুটবল লিগে জেলা পর্যায়ে হয়েছেন সেরা গোলদাতা। এরপরই খুলে যায় ভাগ্যের দরজা। সারা দেশ থেকে ৪০ জন সম্ভাবনাময়ী নারী ফুটবলার খুঁজে বের করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। সেখানেই জায়গা করে নেয় খাগড়াছড়ির কন্যা সেনারি।
খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে গিরিফুল চাকমাপাড়া। পাড়ার পাহাড়ি চেঙ্গী নদীর তীরে বেড়ে উঠেছেন এই গর্বিত ফুটবল কন্যা। মা কণিকা চাকমা, বাবা বানমোহন চাকমা। টানাপোড়নের সংসার। ভাঙা এক ঘরে সেনারির বেড়ে ওঠা।
সেনারি চাকমা বলেন, ২০১৯ সালে চেঙ্গী ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি হই। তখন পরিবার থেকে স্টেডিয়ামে যাওয়া-আসার জন্য প্রতিদিন ৪০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিতে অনেক কষ্ট হতো। তিন কিলোমিটার হেঁটে খেলতে যেতাম।
তার মা বলেন, ‘দরিদ্র ঘরে জন্ম দিয়েছি। আয়-রোজগার কম। দুই বেলা খাবার জোগাড় করতেই কষ্ট হত। এমন একটা পরিবার থেকে ফুটবল খেলার স্বপ্ন। স্বপ্ন কতটুকু পূরণ হবে জানি না। কিন্তু চেষ্টা করছি।’
নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি দেশের জন্যও সুনাম বয়ে আনতে চান এই তরুণী, ‘এক জোড়া বুট অমার ছিল না। একটা জার্সি কেনার টাকা ছিল না। অভাবে কারণে প্রায় সময় স্কুলেও যাওয়া হতো না। কিন্তু হাল ছাড়িনি। আমার স্বপ্ন হচ্ছে আমি একদিন জাতীয় দলে খেলব। দেশের সুনাম বয়ে আনব।’
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত