কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (সিএইচআরআইও) নামের একটি সংগঠন খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ সম্মাননা দিয়েছে। এ পুরস্কার পাওয়ার প্রায় চার বছর পর গত মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ কথা জানিয়েছে বিএনপি।
তবে খালেদা জিয়ার পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি জানানোর পর থেকে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুরস্কারের কথা কেন চার বছর গোপন রাখা হলো এমন প্রশ্নও ছুঁড়ে দিয়েছে বিভিন্ন মহল। অন্যদিকে কানাডার সিএইচআরআইও নামে সংগঠনটি নিয়েও রয়েছে নানা ধরনের বিতর্ক। যদিও সিএইচআরআইও কানাডার মূল শাখা জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার পুরস্কারের বিষয়ে তারা জানে না। এটি সংগঠনটির এশিয়া মিশনের বিষয়।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলন থেকে জানা যায়- ‘ডেমোক্রেসি হিরো’ ক্যাটাগরিতে খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কার দেওয়া হয়। তাতে উল্লেখ আছে, বাংলাদেশে ও বহির্বিশ্বে অনগ্রসর জনগণের জন্য গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য খালেদা জিয়াকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ক্রেস্টের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই।
এত দিন পর এ পুরস্কারপ্রাপ্তির বিষয়টি জানানোর কারণ কী, জানতে চাইলে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা তো পাবলিসিট করার পার্টি না। অনেকে হাউস অব কমন্সের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলে প্রচার করে, হাউস অব কমন্সে মিটিং করেছি। আমাদের এ অভ্যাস নেই। করোনা পরিস্থিতি, ম্যাডামের অসুস্থতা, নানা কারণে হয়তো এত দিন জানানো হয়নি।
কানাডার সংগঠন সিএইচআরআইওর ওয়েবসাইটে তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, অলাভজনক সংগঠন হিসেবে ২০০৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে। এর সদর দফতর কানাডার অন্টারিও টরেন্টো। মানবাধিকার সুরক্ষা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সহায়তা করা সংগঠনটির লক্ষ্য বলে ওয়েবসাইটে বলা হয়। কানাডার বাইরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এর শাখা আছে।
সংগঠনটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এর এশিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মমিনুল হক এবং বাংলাদেশ মিশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম। দুজনই বাংলাদেশি। জানা গেছে- যিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের ভাগ্নে। তিনি কানাডার বিএনপির একজন নেতা বলেও তথ্য মিলেছে।
শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক লাইভে এসে কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর জানান, খালেদা জিয়ার ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কারটি কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশনের মূল কার্যালয়ের বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ম্যারিও গুইলোম্বো। ম্যারিও গুইলোম্বো নতুন দেশকে জানান, এটি সংগঠনটির এশিয়া মিশনের বিষয়, সংগঠনটির আঞ্চলিক এই মিশনই এ পুরস্কারের মনোনয়ন দিয়েছে।
এদিকে ফেসবুক লাইভে এসে সংগঠনটির এশিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক মো. মমিনুল হক বলেন, কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস অর্গানিজেশন মূলত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে। এর মূল কাজ হচ্ছে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের গৃহীত সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের ভিত্তিতেই আমাদের সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। এই সংগঠন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার ব্যাকগ্রাউন্ড বাংলাদেশি, নিয়োগ পাওয়ার আগে সংগঠনটিতে আমি দীর্ঘদিন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছি। তাদের একটি প্রোগ্রামের যুক্ত হওয়ার পর তারা আমাকে এশিয়ার ডিভিশনের জন্য নির্বাচন করে। এই প্রতিষ্ঠানকে মূলত আমি বাংলাদেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কারণ বাংলাদেশের জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং তারা জানেন না তাদের মৌলিক অধিকার কী অথবা জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী তাদের অধিকার কী; এ বিষয়গুলোতে তাদের জানাতে কাজ করতে চেয়েছিলাম।
এশিয়া মিশনের কোনও কার্যালয় আছে কিনা জানতে চাইলে মমিনুল হক জানান, এশিয়া মিশনে ২০ থেকে ৩০ জন কাজ করে। তবে এই অঞ্চলে কোনও কার্যালয় নেই। তিনি বলেন, আমাদের আর্থিকভাবে এতটা স্বচ্ছলতা নেই যে, আলাদা একটা অফিস করতে পারবো। এখানে যারা এ কাজ করে তারা কিন্তু স্বেচ্ছাসেবী, এই সংগঠনে কেউ চাকরি করছে না।
তিনি বলেন, যদি কোনও নেতা বা নেত্রী মানবাধিকার সোশ্যাল জাস্টিস নিয়ে কাজ করে আমরা অবশ্যই তাকে (পুরস্কার) দেবো। আপনি যদি আমাদের কাছে কারও নাম প্রস্তাব করেন আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো, যদি দেওয়ার মতো হয় তাহলে দেবো। এই পুরস্কার মূলত সংগঠনের ট্রিলিয়াম অ্যাওয়ার্ডের অন্তর্গত। এই প্রথমবার আমরা এই পুরস্কারটি দিয়েছি।
এসময় ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কারটি শুধু এশিয়া মিশনের ক্রাইটেরিয়া কিনা জানতে চাইলে মামুনুল হক, না, মূল ট্রিলিয়াম অ্যাওয়ার্ডের একটা ক্যাটাগরি হচ্ছে মাদার অব ডেমোক্রেসি।
পিএসএন/এমঅাই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত