গতকাল(রবিবার) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।ওই শিক্ষাার্থীর নাম কাজল মন্ডল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাাবর্ষের অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী ছিলেন।থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই হলরোডের এক মেসে। তার বাড়ি যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায়।তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রবিবার পরিক্ষা থাকলেও পরীক্ষা দিতে যাননি কাজল। তাই পরীক্ষা শেষে তার খোঁজ নিতে আসলে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। বারবার নক করে কোনো আওয়াজ না পাওয়ায় দরজার ছিদ্র দিয়ে ঝুলন্ত লাশ দেখা যায়।
বন্ধু ও সহপাঠীদের ধারণা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ডিপ্রেশন থেকে সুইসাইড করতে পারেন কাজল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ফেসবুকে শেষ স্টোরি ছিল নিজের ছবি দিয়ে লেখা- 'I wanna to come again properly'
গত শনিবার (৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা’র ভিডিও প্রতিবেদনে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর শেয়ার করা পোস্টের নিচে কাজল একটি মন্তব্য করেছিলেন।
সেই পোস্টের কমেন্টে কাজল লিখেছিলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কোটি কোটি টাকার বাজেট পাশ না করলেও আমাদের বিনামূল্যে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। দুই বেলা খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা থাকলে হয়তো বা আমাদের এতো ভেঙে পড়া লাগে না’।
এই ঘটনার জেরে খুবি শিক্ষার্থীদের সবথেকে বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'Khulna University Campus' নামের ফেসবুক পেইজে অনেকেই তাদের মনের কথাগুলো প্রকাশ করেছে । ইংলিশ বিভাগের ১৬ ব্যাচের ছাত্র সুমন মুজমদার লিখেছেন,
এই বিশ্ববিদ্যালয় একটা খুনী, কারণ সে তার একজন শিক্ষার্থী দু'বেলা ঠিকমতো খেয়ে পরে বেঁচে আছে কি না তার খোঁজ নেয় না। এই বিশ্ববিদ্যালয় একটা খুনী, কারণ সে সিজিপিএকে একজন শিক্ষার্থীর একমাত্র মানদণ্ড বানিয়ে ব্যাকবেঞ্চারদেরকে খড়কুটোর চোখে দেখে। তার ধারণা সবাই এইখানে টিচার হইতে আসে। সে খুনী কারণ সে প্রথম ক্লাসেই শিক্ষার্থীর বাবার পেশা জিজ্ঞেস করে তাকে ক্লাসিফাই করে ফেলে। সে খুনী কারণ সে সিনিয়র-জুনিয়র-ব্যাচমেট বন্ডিং তৈরির সমস্ত প্রসেস নষ্ট করে দিয়েছে। সে খুনী কারণ তার একজন শিক্ষার্থী তার মায়ের অপারেশনের জন্য অ্যাবসেন্ট থাকলে তাকে অ্যাটেন্ডেন্সের মার্ক ভিক্ষে চাইতে হয়। সে খুনী কারণ একটা ক্লাসে তার টার্গেট করা পাঁচজন শিক্ষার্থী একটা লেকচার বুঝে ফেললেই তার কাজ শেষ, বাকিরা বুঝলো কি না সেটা তার দেখার বিষয় নয়৷ সে খুনী কারণ একজন শিক্ষার্থী সেমিস্টার ফাইনাল দিতে না এলে ফোন করে তার খোঁজ নেওয়া হয় না কিন্তু সে গাছের ডাব পেড়ে খাইলে তার বাসায় ফোন দেওয়া হয়। সে খুনী কারণ ক্লাসে কেউ ঘুমিয়ে পড়লে তার রাতে কেন ভাল ঘুম হয় নি তা জিজ্ঞেস না করে স্ট্রেইট বের করে দেওয়া হয়। সে খুনী কারণ একজন শিক্ষার্থী রাত বেরাতে ক্যাম্পাসে গলা ছেড়ে গান গাইলে তাকে অন্য চোখে দেখা হয়। সে খুনী কারণ একজন শিক্ষার্থী যে টিউশন করে তার পরিবারকে চালায়, সেই টিউশনি শেষে ক্লাসে পাঁচমিনিট লেটে আসলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয় না৷ সে খুনী কারণ সে সিজিপিএর ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীর আত্মিক ও মানসিক উন্নয়নের দিকে কখনো ভ্রুক্ষেপ করে নি। এর সবগুলো স্লো পয়জনিং-এর উদাহরণ। এই বিশ্ববিদ্যালয়, এই সিস্টেম হইলো সিরিয়াল কিলার।

পি এস/এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত