বিশেষ প্রতিনিধিঃ তদন্তের সত্যতা না পাওয়ায় সহকর্মীর আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘ দশমাস পর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছোটন দেবনাথ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২১৯তম সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস পর ছোটন দেবনানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত কমিটি। ফলে ছোটন দেবনাথকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্তাদেশও প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জানা যায় যে, গত বছর ৮ই সেপ্টেম্বরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষিকার আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে একই বিভাগের শিক্ষক ছোটন দেবনাথকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক থেকে শুরু করে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল ঘটনাটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
খুবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুস এ বিষয়ে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ছোটন দেবনাথের বিরুদ্ধে ৩.১ (গ) ও ৩.১ (ঘ) ধারায় আনীত অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং আইনের ৩.১ (ট) ধারায় আনীত অভিযোগ বিচারের আওতাবহির্ভূত বিধায় অভিযোগ বিবেচনা করা হয়নি বিধায় তাকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তার সাময়িক বরখাস্তাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা, ২০০৮’ মোতাবেক ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’ অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটির তদন্ত করে। ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে শাস্তির সুপারিশ করার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১০ মাস পর কেন্দ্র তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করে এবং তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষক নির্দোষ প্রমাণিত হয়।
এ বিষয়ে ছোটন দেবনাথ প্রতিদিন সেবক'কে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি ষড়যন্ত্রমূলক এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন। তদন্তেও অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মূলত আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও হেনস্থা করার হীন উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই বানোয়াট অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগটি আমলে নেওয়ার কারণে এবং তদন্ত কমিটি বিচারকার্য দীর্ঘায়িত করার ফলে আমি মানসিক, সামাজিক, পেশাগত ও আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’
অন্যদিকে অভিযোগকারী বলেন, আমি তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট নই। আমার মূল যে অভিযোগ ছিল ৩.১(ট) ধারায়, অর্থাৎ যৌন হয়রানির। সেই বিষয়টি তারা আমলেই নিল না। আর আমাকে জানালো ১০ মাস পর। যে ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির তদন্তের এখতিয়ারভুক্ত নয় বলা হচ্ছে, তাহলে ওই বিষয়ে সকল ধরনের তদন্ত কেন করা হলো- ঘটনাস্থলে যাওয়া, সাক্ষীদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করা, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের মুখোমুখি করে কল রেকর্ডিং শোনা হলো কেন?
তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মোসা. তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘কোনও ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সংঘটিত হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তা বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ার বহির্ভুত। ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদীর প্রমাণাদি এবং সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে অভিযোগ তদন্ত ও বিশ্লেষণের জন্য ১০ মাস সময় লেগে গেছে।
এএপি/সামো
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত