
খুলনা (১০ আগস্ট)
খুলনায় ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে গুলি, লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে লাগলো মায়ের শরীরে। গুলিবিদ্ধ শিমুল (৩৫) নামের ওই নারীর অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলে জানাগেছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিটি তার কোমরে বিদ্ধ হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ শিমুল ওই এলাকার বাসিন্দা মুকুলের স্ত্রী। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সার্জারি ৯-১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার সকালে ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত করিমনগর এলাকায় শিমুলের বাসায় গিয়ে তার ছেলে হৃদয়কে খুঁজতে থাকে। এ সময় হৃদয়কে না পেয়ে দুর্বৃত্তরা তার বাবা মুকুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে শিমুলের কোমরে বিদ্ধ হয়।
গুলির শব্দ ও শিমুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহতের স্বামী মুকুল বলেন, সাড়ে ১০টার দিকে ৬-৭ জন যুবক এসে দরজায় টোকা দেয়। দরজা খুললে তার আমাদের ছেলে হৃদয়ের সন্ধান চায়। বাড়িতে নেই বলার সাথে সাথে তাদের ভেতর থাকা একজন যুবক আমাকে লক্ষ্য করে গুলিটি চালালে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে স্ত্রী শিমুলের কোমরের পেছনে ডানপাশে বিদ্ধ হয়।
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ নারীর ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে দুর্বৃত্তদের অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধ থাকতে পারে। তাকে না পেয়ে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিস্টেন্ট কমিশনার (মিডিয়া) সেবককে জানান, সকালের ঘটনা সম্পর্কে কেএম্পি হেডকোয়ার্টার্স অবগত।
সকাল থেকেই সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে কয়েকজনকে সনাক্ত করেছে। তাদের ব্যাপারে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খোঁজ চলছে।
আরো অনুসন্ধানে জানাজায়, ভিকটিম হৃদয় সম্ভবত ফ্রিল্যান্সিং করত বাসায়। তার সম্পর্কে আগে কোন থানায় কোন অভিযোগ ছিল না। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্য নেওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে হৃদয়ের সাথে হামলাকারীদের আগের থেকে কোন ব্যবসায়িক যোগসূত্র ছিল। তবে ফ্রিল্যান্সার কিংবা ব্যবসায়ী হয়ে এদের কাছে বন্ধুক কি করে আসলো তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
এ ঘটনার পর থেকে হৃদয়কে তার পরিবার কিংবা পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না।
তবে আমাদের কাছে যে তথ্য প্রমান আছে আশা করছি খুব শীঘ্রই দোষীদের গ্রেফতার করতে পারব। শুধু তদন্তের স্বার্থে কিছু নাম বলতে পারছি না, যাদের আমার সন্দেহ করছি।
এবং কেএমপি প্রতিনিয়তই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট ও অভিযান পরিচালনা করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত