
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় কর্তৃক ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে ভোক্তা অধিকারের ০৭টি টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগির বাজার ও ডিমের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযানকালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি ও জরিমানা করা হয়।
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম-এর নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার মজিদ সরণী রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ আই হসপিটাল-কে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় ১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হাসান-এর নেতৃত্বে লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স মিলন এন্টারপ্রাইজ-কে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় মোট ০১টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান-এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার লেবুতলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাথী বেকারি-কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় ০১টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সজল আহম্মেদ-এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার পুরাতন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স হামিম চিকেন হাউজ-কে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে ১ হাজার টাকা এবং মেসার্স প্রান্ত চিকেন হাউজ-কে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মোট ০২টি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান-এর নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা উপজেলার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স তিতাস সাইকেল স্টোর-কে সেবাগ্রহীতার জীবন বিপন্নকারী কার্য করার অপরাধে ২ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে মেসার্স ছামিরন ফার্মাসি-কে ১০ হাজার টাকা, মেসার্স রবিউল বীজ ভান্ডার-কে ৩ হাজার টাকা এবং মেসার্স বিসমিল্লাহ হোমিও ক্লিনিক-কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় ০৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের-এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার কবি হাটগো বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিল্টন স্টোর-কে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় মোট ০১টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব-এর নেতৃত্বে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাকালী ভান্ডার-কে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৮ হাজার টাকা, একই অপরাধে বিকাশ স্টোর-কে ৫ হাজার টাকা এবং মেসার্স মীম এন্টারপ্রাইজ-কে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৪ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় মোট ০৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
অভিযানে মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত