
খুলনায় স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর দীর্ঘদিনের পরিচিত এক তরুণকে বিয়ে করেছেন এক তরুণী। আদালতের মাধ্যমে ধর্মান্তর ও পরবর্তীতে আইনানুগভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে
তরুণীর পূর্বনাম ছিল 'চৈতি পাল আঁচল'। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয় 'জান্নাতুল মাওয়া'। তিনি রনজিত কুমার পালের কন্যা। অপরদিকে বর মো. রমজান, মোহাম্মদ ইউনুছ হাওলাদারের ছেলে এবং পূর্ব বিল পাবলা এলাকার বাসিন্দা।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জান্নাতুল মাওয়া বলেন, তিনি তার স্বামীকে ভালোবাসেন এবং তার সঙ্গেই থাকতে চান। ধর্মান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম আমার আগে থেকেই ভালো লাগত। সেই ভালো লাগা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি।
অন্যদিকে মো. রমজান জানান, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন,আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর আমরা বিবাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ে করেছি।
তরুণীর ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো চাপ বা প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. রমজান বলেন, সে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে আমি তার ওপর কোনো ধরনের জোর বা চাপ প্রয়োগ করিনি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ঘোষণার মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তন করতে পারেন, যা তার আইনগত অধিকার। পাশাপাশি, নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিবাহ করা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনসম্মত অধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, তরুণী খুলনার জজ কোর্টের মাধ্যমে ধর্মান্তর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উভয়ের সম্মতিতে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তারা একসঙ্গে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে উভয় পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, মেয়ের পরিবার বিয়েটি মেনে না নিলেও ছেলের পরিবার নবদম্পতিকে গ্রহণ করেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত