
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার শেষ পর্ব প্রতিমা বিসর্জন। বিদায়বেলায় ভক্তদের চোখে জল, হৃদয়ে বিষাদ আর আগামী বছরের অপেক্ষা। এভাবেই খুলনার ভৈরব নদের জেলখানা ঘাটসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন।
ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর ভক্তদের আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে খুলনা নগরীর জেলখানা ঘাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন। পাঁচ দিনের পূজা শেষে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে বিকাল থেকেই ঘাটে জড়ো হন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় ভক্তদের মধ্যে দেখা যায় আবেগ আর বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।
বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়, সিঁদুর খেলা এবং নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
এদিকে, বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ঘাট এলাকায় ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভক্তদের প্রত্যাশা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন অটুট রেখে আগামী বছর আবারও ফিরে আসবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
এদিকে খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা ৯টি উপজেলায় শান্তিপুর্ন উৎসব শেষ হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাষ করেছেন। তিনি বলেন, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে দুর্গাপূজা পালন প্রমাণ করে সরকার সকল ধর্মের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
খুলনা জেলার ৯টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভায় ৮৯০টি দুর্গাপূজা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে পালনের লক্ষ্যে গঠিত জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক রতন কুমার মিত্র ও সদস্য সচিব সুমন দাসের নেতৃত্বে গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হওয়ায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
তিনি দুই শতাধিক পূজা মণ্ডপে পূজা পরিক্রমা ও শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সকল অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সনাতনীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেবী দুর্গার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সকল অপশক্তির বিনাশ হয়ে শুভশক্তির আবির্ভাবের মাধ্যমে শান্তি-নিরাপত্তা-সাম্য-ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তুলতে হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত