খুলনায় পিতার মৃত্যুর রহস্য ও হত্যাকান্ডের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করে বিপাকে পড়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান তুহিন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্নে জর্জরিত করা হচ্ছে। এছাড়া আকার ইঙ্গিতে ভয়ভীতি দেয়া এবং সিআইডি’র তদন্ত কর্মকর্তা ঘুষ চেয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুলনার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী তুহিনের মা আফরোজা আক্তার এসব অভিযোগ করেন। এবিষয়টি নিয়ে সঠিক বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধান বরাবর তিনি লিখিত অভিযোগ দিবেন বলেও জানিয়েছেন।
নিহত মোটরগ্যারেজ মালিক ব্যবসায়ী মোঃ বিপ্ল¬বের স্ত্রী আফরোজা আক্তার মুঠোফোনে জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে আমার ছেলেকে ৩১ মে র্যাব-৬ থেকে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর আমার ছেলে সেখানে গেলে র্যাবের কর্মকর্তারা তাকে নানা ধরনের প্রশ্ন করে। একপর্যায়ে মামলার ৬নং বিবাদি কেএম আব্দুল¬াহ’র নাম কেন দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্ন করেন। এরপর ২জুন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র উপ পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ডেকে নেন। একইভাবে ৬নং আসামির বিষয়ে আমার ছেলেকে জেরা করেন তিনি। এছাড়া আমার মা মামলার স্বাক্ষী মাজেদা বেগমের নিকট থেকে সিআইডি’র কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জোর পুর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মোটা অংকের টাকা না হলে এ মামলা পরিচালনা করা বোকামি বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া এ মামলায় ফলাফল তেমন ভালো হবে না বলেও মামলার বাদি তুহিনকে জানান। এসকল বিষয়ে মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন ওই শিক্ষার্থী। পিতার হত্যাকান্ডের বিচার চাইতে গিয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।
এবিষয়ে বক্তব্য নিতে মামলার বাদি শিক্ষার্থী তুহিনের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাদি পক্ষ যদি এধরনের অভিযোগ করে থাকেন তাহলে কি বলবো। মামলার সঠিক তদন্তের জন্য যা যা করনীয় সকল ধাপ মেনেই তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
র্যাব-৬’র মিডিয়া উইং কর্মকর্তা বজলুর রশিদ বলেন, কেএম আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি তুহিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ওই বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে তাকে ডাকা হয়েছিলো। র্যাব কার্যালয়ে এসে তুহিন তার পিতার মৃত্যুর বিষয়ে আদালতে মামলার কথা জানান এবং কাগজপত্র দেখান। ওগুলো দেখার পর এবিষয়ে তাকে আর কোন প্রশ্ন করা হয়নি।
প্রসঙ্গত: খুলনা মহানগরীর বয়রা এলাকার মোটরগ্যারেজ মালিক ব্যবসায়ী মোঃ বিপ্ল¬ব গত ৭ মে রাত দেড়টার দিকে নিহত হন। ঢাকায় অবস্থানরত ছেলে মেহেদী হাসান তুহিনকে মোবাইলে গ্যারেজের এক কর্মচারী জানান তার বাবা স্ট্রোক করে মারা গেছেন। ওই কথা শুনে সে পরদিন সকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা করে দুপুর আড়াইটার দিকে খুলনায় আসেন। তিনি যখন খুলনায় বাবার বাড়িতে আসেন তখন গোয়ালখালী কবরস্থানে লাশ দাফনের সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে।
তার অনুপস্থিতিতে মৃত বাবার দাফন, জানাযা সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদনও করা হয়। যিনি ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি বাদীর পরিবারের কেউ নন। তাছাড়া বাদী লোকমুখে শুনেছেন মারা যাওয়ার পর তাঁর বাবার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল ও জিহ্বা বের হয়ে ছিল। বাদীর বাবা মারা যাওয়ার পর সকালে গ্যারেজ থেকে তাঁর মোবাইল, মোটরসাইকেল ও গ্যারেজের কাগজপত্রও নিয়ে আসেন আসামিরা। এসব কারণে বাদীর সন্দেহ হয়েছে তাঁর বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত ব্যবসায়ী বিপ¬বের ছেলে মেহেদী হাসান তুহিন গত ২২ মে পিতার হত্যার অভিযোগে খুলনার নালিশী আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিবাদীরা হলেন- হাজী মহসিন রোড এলাকার মুনিয়া বেগম, খালিশপুরের কাশিপুর মালা গ্যারেজ মোড় এলাকার শেখ নাজমুল ও তাঁর মা রেবেকা বেগম, হাজী মহসিন সড়কের মোঃ মানিক শেখ, বিএল কলেজ রোড এলাকার মোঃ মুছা শেখ ও কে এম আব্দুল¬াহ। ২৪মে শুনাণী শেষে মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ওই আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুমী আহমেদ। সিআর খুলনা-৯০৮/২২ এ মামলাটি আগামী ৭আগস্ট পরবর্তি তারিখ নির্ধারন করেছেন আদালত।
পি এস/এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত